সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশকের অ্যাকশন হিরো ভ্যান ড্যাম এখন কোথায়

ব্যালেরিনার মতো শরীরের নমনীয়তা, মার্শাল আর্টের দক্ষতা আর চোখধাঁধানো স্প্লিট—এই তিনের সমন্বয়ে নব্বইয়ের দশকে অ্যাকশন সিনেমার আলাদা এক পরিচয় হয়ে উঠেছিলেন জাঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম। বেলজিয়ামের এক সাধারণ পরিবার থেকে হলিউডের তারকা হয়ে ওঠার পথটা অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও সিনেমার জগতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তিনি।

অ্যাকশন সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু মুখ আছে, যাঁদের পরিচয় দিতে কোনো দীর্ঘ ভূমিকার প্রয়োজন হয় না। পা দুটো দুই দিকে ছড়িয়ে দেওয়া সেই অবিশ্বাস্য স্প্লিট, মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে লাথি, আর বিপদের মুখেও অবিচল এক মুখ—জাঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যামকে মনে করতে এই দৃশ্যগুলোই যথেষ্ট। আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত মার্শাল আর্টনির্ভর অ্যাকশন সিনেমার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। ব্লাডস্পোর্ট, কিকবক্সার, ইউনিভার্সাল সোলজার ও টাইমকপ তাঁকে এনে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক পরিচিতি।

আজ ১৮ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। ১৯৬০ সালের এই দিনে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের কাছের বার্খেম-সাঁত-আগাথ এলাকায় জন্মেছিলেন জ্যঁ-ক্লদ ক্যামিল ফ্রাঁসোয়া ভ্যান ভারেনবার্গ। বিশ্ব তাঁকে চেনে জাঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম নামে। কিন্তু এই নাম, খ্যাতি আর পর্দার দুর্ধর্ষ ব্যক্তিত্বের পেছনে আছে এক তরুণের দীর্ঘ সংগ্রাম—যিনি ইউরোপ থেকে হলিউডে গিয়েছিলেন বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে, অথচ শুরুতে তাঁকে লড়তে হয়েছে অর্থকষ্ট, প্রত্যাখ্যান আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে।

১১ বছর বয়সে কারাতে, ১৬ বছরেই বদলে গেল জীবন
ছোটবেলায় ভ্যান ড্যাম ছিলেন কিছুটা লাজুক, রোগাটে গড়নের এক কিশোর। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও ছিল। ছেলের শারীরিক গঠন ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে তাঁর বাবা তাঁকে কারাতের প্রশিক্ষণে ভর্তি করান। বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। প্রশিক্ষক ক্লদ গেৎজের অধীন শুরু হয় তাঁর মার্শাল আর্টের অনুশীলন। ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে তাঁর শরীর, মানসিকতা ও জীবনযাপনের ধরন।

কারাতের পাশাপাশি শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ে মনোযোগী হন ভ্যান ড্যাম। তবে তাঁর প্রশিক্ষণের আরেকটি দিক ছিল ব্যালে। প্রায় পাঁচ বছর ধ্রুপদি নৃত্যের চর্চা করেছিলেন ভ্যান ড্যাম। বাইরে থেকে কারাতে ও ব্যালে সম্পূর্ণ আলাদা মনে হলেও পর্দায় তাঁর বিশেষত্ব হয়ে ওঠে এই দুইয়ের সমন্বয়। ব্যালে তাঁকে শরীরের ভারসাম্য, নমনীয়তা ও নিখুঁত শারীরিক নিয়ন্ত্রণ অর্জনে সহায়তা করে।

কিশোর বয়সেই কারাতেতে দক্ষতা অর্জন করেন ভ্যান ড্যাম। ১৮ বছর বয়সে ব্ল্যাক বেল্ট পান। ইউরোপীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য আসে। শরীরচর্চায় তাঁর আগ্রহ এতটাই ছিল যে বেলজিয়ামে একটি জিমনেসিয়ামও চালু করেছিলেন। ব্যবসা ভালো চললেও তাঁর স্বপ্ন আটকে ছিল না নিজের দেশ কিংবা শরীরচর্চার জগতে।
ভ্যান ড্যাম হতে চেয়েছিলেন চলচ্চিত্রের নায়ক। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই জীবনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।

পকেটে সামান্য টাকা, সামনে হলিউডের কঠিন বাস্তবতা
আশির দশকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখেন ভ্যান ড্যাম। তাঁর কাছে ছিল সামান্য অর্থ, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাও ছিল সীমিত। হলিউডে তখন প্রতিষ্ঠিত অ্যাকশন তারকাদের দাপট। সিলভেস্টার স্ট্যালোন, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ও চাক নরিসের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জায়গা করে নেওয়া ছিল কঠিন।
কিন্তু ভ্যান ড্যাম হাল ছাড়েননি। জীবিকার প্রয়োজনে কখনো পিৎজা পৌঁছে দিয়েছেন, কখনো ট্যাক্সি চালিয়েছেন, কখনো কাজ করেছেন নাইট ক্লাবে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ছিল বিস্তর। শরীরের দক্ষতা ছিল, কিন্তু শুধু কারাতে জানলেই যে সিনেমায় নায়ক হওয়া যায় না, তা দ্রুত বুঝতে পারেন তিনি।

‘ডেথ ওয়ারেন্ট’ সিনেমার পোস্টার

১৯৮৪ সালে অ্যাকশন তারকা চাক নরিসের সঙ্গে ভ্যান ড্যামের পরিচয় হয়। তাঁর মার্শাল আর্টের দক্ষতা নজর কাড়ে নরিসের। চাক নরিসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান ও সিনেমার জগতে প্রবেশের পথ কিছুটা খুলে যায়। এরপর ছোটখাটো চরিত্র ও স্টান্টের কাজ করলেও বড় সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

১৯৮৫ সালে ‘নো রিট্রিট’, ‘নো সারেন্ডার’ সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন ভ্যান ড্যাম। তবে এই কাজ তাঁকে রাতারাতি তারকা বানাতে পারেনি। হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তখনো প্রয়োজন ছিল এমন একটি সিনেমার, যেখানে তাঁর শারীরিক দক্ষতা ও পর্দায় উপস্থিতি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে। সেই সুযোগ আসে ১৯৮৮ সালে।

‘ব্লাডস্পোর্ট’ বদলে দিল সব হিসাব
১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় ‘ব্লাডস্পোর্ট’। ফ্র্যাঙ্ক ডাক্সের কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় ভ্যান ড্যাম অভিনয় করেন ফ্র্যাঙ্ক ডিউকস নামের এক মার্শাল আর্ট যোদ্ধার চরিত্রে। গোপন এক আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তৈরি সিনেমাটিতে ছিল একের পর এক লড়াই, প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার কৌশল ও শারীরিক দক্ষতার প্রদর্শন।

সিনেমাটি তৈরির সময় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা নিশ্চয়তা ছিল না। প্রযোজক মেনাহেম গোলান প্রথমে ছবিটি সরাসরি ভিডিওতে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছিলেন বলে ভ্যান ড্যামের জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু নিজের অভিনীত সিনেমাটির সম্ভাবনায় বিশ্বাস ছিল অভিনেতার। ছবিটির সম্পাদনা নিয়েও তিনি কাজ করেন এবং প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পক্ষে চেষ্টা চালান।

শেষ পর্যন্ত ‘ব্লাডস্পোর্ট’ তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। দর্শকেরা পর্দায় এমন একজন অ্যাকশন তারকাকে পেলেন, যিনি শুধু পেশিবহুল নন, দ্রুতগতির লড়াইয়ে দক্ষ ও অবিশ্বাস্য রকম নমনীয়। সিনেমাটির সাফল্যের পর ভ্যান ড্যামের সামনে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা।

এরপর ১৯৮৯ সালে ‘কিকবক্সার’ ও ‘সাইবর্গ’। ১৯৯০ সালে ‘লায়নহার্ট’ ও ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’। পরপর এসব সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন মার্শাল আর্টনির্ভর অ্যাকশন সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে।
ভ্যান ড্যামের ডাকনাম হয়ে যায় ‘মাসলস ফ্রম ব্রাসেলস’—ব্রাসেলসের পেশিবহুল মানুষ। নামটির মধ্যে যেমন ছিল তাঁর শারীরিক শক্তির স্বীকৃতি, তেমনি ছিল বেলজিয়ামের ছোট শহর থেকে উঠে আসা এক তারকার পরিচয়।

‘ডাবল ইমপ্যাক্ট’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

নব্বইয়ের দশকে অ্যাকশন সিনেমার পরিচিত মুখ
নব্বইয়ের দশক ছিল ভ্যান ড্যামের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়গুলোর একটি। ১৯৯১ সালের ‘ডাবল ইমপ্যাক্ট’ সিনেমায় যমজ দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। একই সিনেমায় দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্বের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি অ্যাকশন দৃশ্যেও দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ইউনিভার্সাল ‘সোলজার’। রোলান্ড এমেরিখ পরিচালিত এই সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন সিনেমায় ভ্যান ড্যামের সঙ্গে ছিলেন ডলফ লুন্ডগ্রেন। সামরিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত মৃত সৈনিকদের পুনর্জীবিত করে বিশেষ যোদ্ধায় পরিণত করার কাহিনির সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় পরিসরে।

১৯৯৩ সালে জন উ পরিচালিত ‘হার্ড টার্গেট’ ভ্যান ড্যামকে হলিউডের বড় অ্যাকশন প্রযোজনায় জায়গা করে দেয়। হংকংয়ের অ্যাকশন সিনেমার বিখ্যাত পরিচালক জন উয়ের সঙ্গে কাজ করে বন্দুকযুদ্ধ, দ্রুত সম্পাদনা ও মার্শাল আর্টের মিশ্রণে নতুন ধরনের অ্যাকশন পরিবেশনার সুযোগ পান তিনি।

এরপর ১৯৯৪ সালে ‘টাইমকপ’। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময় ভ্রমণ ও অপরাধ ঠেকানোর কাহিনির সিনেমাটি ভ্যান ড্যামের ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি বক্স অফিসে তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৫ সালে ‘সাডেন ডেথ’ সিনেমাতেও দেখা যায় তাঁকে।

এ সময়ের ভ্যান ড্যাম ছিলেন শুধু লড়াইয়ের দৃশ্যের নায়ক নন; তিনি ছিলেন সিনেমার প্রচারণারও বড় আকর্ষণ। তাঁর স্প্লিট, উঁচুতে লাফিয়ে ঘুরে লাথি মারা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাতাহাতির দৃশ্য দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিত হয়ে ওঠে।

তবে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে হলিউডে অ্যাকশন সিনেমার ধরন বদলাতে শুরু করে। বড় বাজেটের সিনেমায় গল্প, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও তারকাদের সমন্বয়ের গুরুত্ব বাড়ে। ভ্যান ড্যামও অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায় আগ্রহী হন। ১৯৯৬ সালে ‘দ্য কোয়েস্ট’ পরিচালনা করেন। কিন্তু তাঁর পরবর্তী কয়েকটি সিনেমা আগের মতো সাফল্য পায়নি।

‘কিকবক্সার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

খ্যাতির আড়ালে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন
পর্দায় ভ্যান ড্যামকে দেখা গেছে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হিসেবে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে নানা সমস্যার। তাঁর দাম্পত্য জীবন ছিল অস্থির। একাধিকবার বিয়ে ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। ১৯৮৭ সালে প্রথম সন্তান ক্রিস্টোফার, ১৯৯০ সালে মেয়ে বিয়াঙ্কা এবং ১৯৯৫ সালে ছেলে নিকোলাসের জন্ম হয়।

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনও ভ্যান ড্যামের ওপর প্রভাব ফেলে। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াইয়ের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১২ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অতীতের ভুল ও আত্মবিধ্বংসী আচরণ নিয়ে কথা বলেন। একসময় যে তারকা হলিউডের বড় বাজেটের অ্যাকশন সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করতেন, তাঁকে পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক ছোট বাজেটের ছবিতে বেশি দেখা যেতে থাকে।

তবে ভ্যান ড্যামের জীবনের গল্প শুধু পতনের নয়। ১৯৯৯ সালে সাবেক স্ত্রী গ্ল্যাডিস পর্তুগিজকে আবার বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে পরিবার ও নিজের জীবনের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যান।

২০০৮ সালের ‘জেসিভিডি’ ভ্যান ড্যামের ক্যারিয়ারে বিশেষ একটি বাঁক। এখানে তিনি নিজের নামেই এক কাল্পনিক চরিত্রে অভিনয় করেন। সাধারণ অ্যাকশন নায়কের পরিচিত ছাঁচ থেকে বেরিয়ে এসে এক বিপর্যস্ত, দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বলতাসম্পন্ন মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পায় ও তাঁর অভিনয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

স্ট্যালোনের সঙ্গে ‘দ্য এক্সপেন্ডেবলস ২’, ফিরেছিলেন আলোচনায়
২০১২ সালে ‘দ্য এক্সপেন্ডেবলস ২ সিনেমায় খলনায়ক জঁ ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেন ভ্যান ড্যাম। সিলভেস্টার স্ট্যালোনের নেতৃত্বে নব্বইয়ের দশকের অ্যাকশন তারকাদের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। দর্শকেরা আবারও তাঁকে বড় পরিসরের অ্যাকশন সিনেমায় দেখতে পান।
এরপরও থেমে থাকেননি ভ্যান ড্যাম। ‘কিকবক্সার: ভেঞ্জেন্স’, ‘কিকবক্সার: রিটালিয়েশন’, ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’তে একজন সাবেক গোপন এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেন। অ্যাকশন ও কমেডির মিশ্রণে তৈরি ছবিটি তাঁর পুরোনো ভক্তদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাঁকে পৌঁছে দেয়।

ভ্যান ড্যামের সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ডার্কনেস অব ম্যান’ (২০২৪), ‘কিল এম অল ২’ (২০২৪) ও ‘দ্য গার্ডেনার’ (২০২৫)। এসব সিনেমা আগের মতো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন না তুললেও অ্যাকশন ঘরানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে এখনো শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট।

এখন কোথায়, কী করছেন ভ্যান ড্যাম
আজ ৬৬ বছরে পা দিলেন ভ্যান ড্যাম। তবে বয়স বাড়লেও নতুন কিছু করার আগ্রহ হারাননি। অভিনয়ের বাইরে এবার মনোযোগ দিয়েছেন চিত্রকলায়।

চলতি বছরের মার্চে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারিতে নিজের আঁকা তৈলচিত্রের প্রদর্শনী করেন তিনি। ৬ ও ৭ মার্চের এই প্রদর্শনীতে ছিল ১২টি শহরকে কেন্দ্র করে আঁকা ছবি। প্যারিস থেকে রিও ডি জেনিরো—বিভিন্ন শহরের দৃশ্য ও স্মৃতিকে ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন তিনি।

চিত্রকলার এই যাত্রা ভ্যান ড্যামের ভক্তদের কাছে নতুন খবর। এত দিন যাঁকে দর্শকেরা লড়াইয়ের দৃশ্যে দেখেছেন, তিনি এখন রং ও তুলির মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করছেন।

সিনেমার কাজও চলছে। ‘কিকবক্সার: আর্মাগেডন’ ও ‘কার্গো’, ‘প্রিজন ফাইট’, ‘রেইড প্যাসিফিক’ ইত্যাদি প্রকল্পেও যুক্ত আছেন তিনি।

এখন ভ্যান ড্যাম। রয়টার্স

ভ্যান ড্যাম সেই সময়ের অ্যাকশন তারকাদের একজন, যখন কম্পিউটার–নির্ভর দৃশ্যের চেয়ে অভিনেতার নিজের শারীরিক দক্ষতাই ছিল অ্যাকশনের বড় আকর্ষণ। তিনি সব সময় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছেন, এমন নয়। তাঁর ক্যারিয়ারে ব্যর্থ সিনেমা আছে, ব্যক্তিগত জীবনে সংকট আছে, খ্যাতির শীর্ষ থেকে নেমে আসার অভিজ্ঞতাও আছে।

নিজের ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ পার করে এসেছেন ভ্যান ড্যাম, এতে সন্দেহ নেই। তবে নব্বই দশকের অ্যাকশন সিনেমার ভক্তদের তাতে কিছুই আসে যায় না। সেই সময়ে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটার কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন কম নায়কই।

দ্য গার্ডিয়ান, আইএমডিবি ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

source https://www.prothomalo.com/entertainment/hollywood/ftkzdweweb

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।