সংগৃহীত

কারাবন্দী সু চিকে কী উপহার পাঠালেন রাজা চার্লস

মিয়ানমারের কারাবন্দী নেত্রী অং সান সু চিকে দুটি বই পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। মিয়ানমারের জান্তা সরকার এ কথা জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার সু চির হাতে রাজা চার্লসের উপহারের বই এবং একটি খামবন্ধ চিঠি তুলে দেওয়া হয়। সেই ছবিও প্রকাশ করেছে জান্তা সরকার।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী। আটক হন দেশটির নেত্রী সু চিসহ তাঁর দল এনএলডির অনেক রাজনীতিবিদ। তখন থেকে ৮১ বছর বয়সী সু চি বন্দী আছেন।

মিয়ানমারের আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। নির্বাচনে জিতে তিনি এখন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন; যদিও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়ে গেছে।

মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জান্তাপ্রধানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে রেখেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কোনো দেশে যেতে পারেন না।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফর করে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং। সর্বশেষ তিনি মালয়েশিয়া সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা করছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, সু চিকে রাজা চার্লসের উপহার দেওয়া দুটি বইয়ের একটি ‘সয়েল টু টেবিল’। ব্রিটিশ বাগানবিদ ব্রিজেট এলওয়ার্থি ও হেনরিয়েটা কোর্টল্যান্ডের লেখা বইটি ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যটি ‘সয়েল: দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট আওয়ার ফিট’। এটি গত বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগ।

জান্তা সরকারের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিলের পাশে সাদা শার্ট পরা দুই ব্যক্তির মুখোমুখি বসে আছেন সু চি।

দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সু চি। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সু চি তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কারাবন্দী ছিলেন, এখনো আছেন। কারাগারে থাকার সময় তিনি অনেক বই পড়তেন বলে জানা যায়। ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

সম্প্রতি সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ করা হয়, কারাগারে সু চির সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সু চির হালনাগাদ ছবি প্রকাশ করল জান্তা সরকার। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ কিছু জানানো হয়নি।

source https://www.prothomalo.com/world/asia/rxmfqaaeur

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।