সংগৃহীত

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে এবার যৌথ অভিযান, আটক ১৫ জনের কারাদণ্ড

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং–সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকার মাদক স্পটে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। এই স্পটটিতেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবির যৌথ দল আজ সোমবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চালায়। অভিযানকালে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবনের অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া দুই সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই রেললাইন–সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছিল। বিকেলে ছদ্মবেশে থাকা এসআরবি-৩ ও ডিএনসির সদস্যরা অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

ডিএনসির ঢাকা উত্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই ভাসমান। একবার অভিযান চালানো হলে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আসে। পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। জায়গাটিতে নিয়মিত কাউকে রাখতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।’

দয়াগঞ্জ রেললাইন এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান চলাকালে আটক এক ব্যক্তি। ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মোহাম্মদ তাওশিফ শরিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে ১০০ টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গত শনিবার এই স্পটটিতে ব্যক্তিগত ও সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে উপস্থিত লোকজনের দিকে তাঁর তেড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায় ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও তাঁর নিজ দল বিএনপির ভেতরেও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গতকাল রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান তিনি।

source https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/2vvehwpfx6

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।