সংগৃহীত

বিরতিতে চেষ্টা করছি সেই পুরোনো মানুষটাকে খুঁজে বের করতে: তাহসান খান

গত বছর সেপ্টেম্বরে হঠাৎই ২৫ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন সংগীতশিল্পী তাহসান খান। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। বর্তমানে কী করছেন এই গায়ক? কীভাবে সময় কাটছে? সেসব নিয়ে গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম

জন্মবার্ষিকীর আগাম শুভেচ্ছা…

তাহসান: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

দিনটি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?

তাহসান: না, জন্মদিন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। দিনটি স্বাভাবিকভাবেই কাটানোর চেষ্টা করি।

জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে কোন সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় বা মিস করেন?

তাহসান: আসলে আমাদের জীবন, ক্যারিয়ার তো ঘটনাবহুল। এ সময়ের মধ্যে, কোনো একটা সময় আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ; এমনটা মনে আসে না। মিস করার চেয়ে বর্তমানে বেঁচে থাকতে ভালোবাসি।

তাহসান খান

ক্যারিয়ারের শুরুতে তাহসান আর আজকের তাহসানের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কী?

তাহসান: ক্যারিয়ারের শুরুতে শিল্পীসত্তার বিচ্ছুরণ বেশি ছিল, তারকাখ্যাতি তেমন ছিল না। অনেক সংগ্রাম, পরিশ্রম করার পরে খ্যাতি পেয়েছি। দর্শক শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছি। এই তো পরিবর্তন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীসত্তাটা খ্যাতির গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে অনেকটাই।

ব্যস্ত ক্যারিয়ার ছেড়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এর পর থেকে সময় কীভাবে কাটছে?

তাহসান: আমি জীবনকে উপভোগ করতে চাই। জীবন উপভোগ করে সময় কাটছে। একসময় গান লেখা, সুর করা, গানের রেকর্ডিং, কনসার্ট—সব অনেক প্রেম নিয়ে উপভোগ করতাম। তারপর একটা সময় ভুলে গিয়েছিলাম, কীভাবে এই উপহারগুলো উপভোগ করতে হয়। বিরতিতে আবার চেষ্টা করছি সেই পুরোনো মানুষটাকে খুঁজে বের করতে। তারকাখ্যাতি আর খ্যাতির বিড়ম্বনা থেকে দূরে থাকাটা খুব জরুরি এই কাজটায়। এভাবেই সময়গুলো কাটিয়ে দিচ্ছি।

তাহসান খান। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী, সেই সঙ্গে কোনো অপ্রাপ্তি রয়েছে কী নিয়ে?

তাহসান: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি অনেক গান করেছি। নিজে বহু গান লিখেছি। বহু গানের সুর করেছি। সেসব গান, যা আমার শ্রোতাদের মনে এখনো বেঁচে আছে, সেসবই হয়তো বড় প্রাপ্তি। আর কোনো অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবি না।

এর আগে বাবা–মেয়ে মজা করে একসঙ্গে গান করেছিলেন, সেটা ভাইরাল হয়েছিল…

তাহসান: হ্যাঁ, বেশ আগের করা। করোনার মধ্যে হঠাৎ করেই মেয়েকে নিয়ে গানটি করেছিলাম। অনেকে পছন্দ করেছিল। আর মেয়েকে নিয়ে যদি বলি, ও হয়তো আমার চেয়ে ভালো মাপের একজন শিল্পী হবে।

আপনার কাছে মেয়ে আইরার কোন আবদারগুলো থাকে?

তাহসান: হা হা, মেয়ের আবদারের তো শেষ নাই। আবদার তো নতুন নতুন, একেক বছর একেক রকম। এই তো গত সপ্তাহে আবদার ছিল, কমিক-কন নিউইয়র্কে যাবে।  

মেয়ে আইরার সঙ্গে তাহসান খান

আপনার কাছে জীবনের অর্থ কী, সেটা খুঁজে পেয়েছেন কি না?

তাহসান: দেখুন জীবনের প্রতি মুহূর্তে জীবনদর্শন আলাদা, বদলায়। এটা সবার জন্যই। আমারও জীবনদর্শন বদলেছে। আমার সেই জীবনদর্শন খুঁজেও পেয়েছি, তবে সেটা একান্তই আমার নিজের। এটা নিয়ে কিছু বলতেও চাই না। কখনো বলার মতো ভাষা পেলে গান-কবিতাতেই লিখব। সেটা সময়ই বলে দেবে।

আপনার গানের নিচে শ্রোতাদের অনেক মন্তব্য, ‘নতুন গান শুনতে চাই।’ আবার গান নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা আছে?

তাহসান: শ্রোতাদের কাছে সব সময়ই কৃতজ্ঞতা। তাদের কারণেই আমি আজকের জায়গায় এসেছি। তারা আমার গান শুনতে চায়, সেটা অনেক ভালো লাগার। কিন্তু ফেরা নিয়ে বা এ বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।

এমনও তো হতে পারে নতুন কিছু করছেন, তেমন নতুন কোনো পরিচয়ে তাহসানকে দেখতে পারবেন দর্শক-শ্রোতারা?

তাহসান: আর কত পরিচয়! অনেক হয়েছে। তেমন কোনো কিছুতে দেখার সম্ভাবনা কম।

source https://www.prothomalo.com/entertainment/song/3sldwuls7m

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।