সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলছে। সরকারের নীতি ও সংবিধান অনুযায়ী, দেশের পাহাড়ি ও সমতলের ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির মানুষের পরিচয় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যমে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গবেষক ও অধিকারকর্মীরা এই শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন, যা জাতিসংঘের সংজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় ‘উপজাতি’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগণের পরিচয় নির্দেশ করে। তবে, কিছু নেতার মধ্যে ‘আদিবাসী’ শব্দটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার প্রবণতা রয়েছে।
এদিকে, ‘আইএলও কনভেনশন-১৬৯’ ও ‘জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র-২০০৭’ অনুযায়ী, আদিবাসী জনগণের জন্য বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ, যা মোট জনগণের ১ শতাংশ। এই জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করে।
তবে, কিছু জনগণ ‘আদিবাসী’, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বা ‘উপজাতি’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কে যেতে চান না। তারা বাংলাদেশি হিসেবে মূলধারায় থাকতে চান। এই বিতর্কে বিভক্তি ও সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।