ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ — কানাডা বনাম বসনিয়া: গোলশূন্যতা ভেঙে রুদ্ধশ্বাস ড্র
নিজের মাটিতে স্বস্তির পয়েন্ট পেল কানাডা, তবে বসনিয়াকে থামাতে পারল না
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে আজ রুদ্ধশ্বাস একটি ম্যাচে স্বাগতিক কানাডা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করেছে। নিজেদের মাটিতে দর্শকদের সামনে খেলে কানাডা প্রচুর সুযোগ তৈরি করলেও গোল পোস্টে বারবার ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে বসনিয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত একটি মূল্যবান পয়েন্ট নিয়ে ফেরে।
ম্যাচের আগেই বিশ্লেষকেরা কানাডাকে এই গ্রুপে সম্ভাবনাময় দল হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। প্রতিভাধর খেলোয়াড় ও স্বাগতিক সুবিধা — দুটি মিলিয়ে কানাডার দিকে পাল্লা ভারী ছিল। কিন্তু বসনিয়া প্রথমার্ধেই তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলী খেলার প্রমাণ দিয়ে গোল করে এগিয়ে যায়।
সুযোগের পাহাড় গড়ে কানাডা, কিন্তু গোল করল বসনিয়া
প্রথমার্ধে ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে কানাডা। জনস্টন, বুকানান, কোনে ও ডেভিড — একের পর এক আক্রমণে বসনিয়া গোলরক্ষক নিকোলাসকে ব্যস্ত রাখে। তবে এত সুযোগের পরেও গোল মেলেনি।
বসনিয়া রক্ষণে দৃঢ় ছিল এবং পাল্টা আক্রমণে বেরিয়ে এসে সেট পিস থেকে হেড করে গোল করার সুযোগ পায়। শেষ পর্যন্ত কর্নার বা ফ্রি-কিকের দ্বিতীয় পর্যায়ে ছোট ফ্লিক অন থেকে লুকাস ইওলুকিচ কাছের জায়গা থেকে বল জালে পাঠান। বসনিয়া ১–০ এগিয়ে যায়।
বসনিয়ার এই গোলটি পরিকল্পিত ফুটবলের নিদর্শন — শারীরিক শক্তি ও দলীয় কৌশলের মিশেলে তারা কানাডার ঘরে ঢুকে পড়ে।
— ম্যাচ ধারাভাষ্য বিশ্লেষণপ্রথমার্ধ শেষে বসনিয়া ১–০ এগিয়ে। কানাডার জন্য লজ্জার ব্যাপার এই যে, তারা নিজেদের মাঠে খেলেও গোলের দেখা পেল না।
এই ম্যাচে ইতোমধ্যে একটি লাল কার্ড দেখা গেছে এবং গোলদাতা ইওলুকিচকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে — টুর্নামেন্টের শুরুতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের ইঙ্গিত।
লারিনের শৈল্পিক গোলে সমতায় ফেরে কানাডা
দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়া লিড ধরে রাখতে চাইলেও কানাডা চাপ অব্যাহত রাখে। সুপারস্টার প্রমিস ডেভিড মাঠে নামার পর আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ হয়। ডেভিড তার শক্তিশালী শরীর ও পায়ের কারিশমা দিয়ে বসনিয়া রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন। তার সঙ্গে কোসিনাচ, এস্তাকিও ও জনস্টনও দারুণ খেলেন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন কায়েল লারিন বল পেয়ে বাঁ পায়ে দারুণ এক শট নিয়ে গোলের কোণে বল পাঠান। গোলরক্ষকের কাছ থেকে একটি সামান্য স্পর্শ লেগেছিল কিনা — সেটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গোলটি স্বীকৃত হয়। কানাডা ১–১ সমতায় ফেরে।
লারিনের গোলটি তার ক্লাব ক্যারিয়ারের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন — সাউদাম্পটনে যে ফর্মে ছিলেন, সেটাই জাতীয় দলে নিয়ে এলেন।
— ধারাভাষ্যকার মন্তব্যগোলের পরে কানাডা আরও চাপ দেয়। বার, পোস্ট, শেষ মুহূর্তের ব্লক — সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল বসনিয়া গোলরক্ষক দেমিরোভিচ একাই দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু দ্বিতীয় গোল আর আসেনি। ম্যাচ শেষ হয় ১–১ ড্রতে।
🔑 ম্যাচের মূল মুহূর্তসমূহ
- বসনিয়া সেট পিস থেকে ছোট ফ্লিক অনে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায়।
- কানাডার জনস্টন ও বুকানান বারবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন কিন্তু ফিনিশিং দুর্বল ছিল।
- প্রমিস ডেভিড বিকল্প হিসেবে মাঠে নেমে খেলার গতি বদলে দেন।
- কায়েল লারিনের শৈল্পিক বাঁ-পায়ের শট কানাডাকে সমতায় ফেরায়।
- বসনিয়া রক্ষক কোসিনাচ একাধিকবার শেষ মুহূর্তে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন।
- বসনিয়ার গোলরক্ষক দেমিরোভিচ অসাধারণ সেভ করে দ্বিতীয় গোল ঠেকান।
- ইওলুকিচ গোল করার পরেও হলুদ কার্ড দেখেন।
- ম্যাচে অন্তত একটি লাল কার্ড এবং একাধিক হলুদ কার্ড দেওয়া হয়।
বসনিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস ও কানাডার প্রত্যাশা
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ২০২২ সালের কাতারে, যেখানে তারা ইকুয়েডরের কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এবারের বিশ্বকাপে যোগ দেওয়া দলটির জন্য এই ড্র নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সূচনা।
কানাডার জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ — নিজেদের মাটিতে খেলে তারা বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল। স্বাগতিক হিসেবে দর্শকদের সামনে অন্তত ড্র করতে পারাটা জেসি মার্শের দলের জন্য নৈতিক বিজয়।
বসনিয়া দল নিয়ে শুরু থেকেই বলা হয়েছিল — এটি দেশটির ইতিহাসে সেরা ২৬ জনের স্কোয়াড। এই পয়েন্ট তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।