২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তারেক রহমানের সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেটে একদিকে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন, অন্যদিকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করেছেন।
সমালোচকরা বলছেন, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, ভঙ্গুর ব্যাংক খাত, দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এই বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হতে পারে। চলতি বছরেই রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা অর্থায়নের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিএনপি সরকার বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আত্মনির্ভরশীল ও চতুর্মাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশলে এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন।
বাজেটে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে “মেড ইন বাংলাদেশ” ব্যানারে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দ্বিতীয় সমরাস্ত্র কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টি এবারের বাজেটে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বাজেটে। স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পাশাপাশি সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে ২০০ কোটি টাকা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যন্ত সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
- স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক
- বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ১০ দিনে ভিসা পাবেন
- ৬৫ ঊর্ধ্বদের ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াত
- মেট্রোরেলে ২৫% টিকিট ছাড় (প্রবীণদের)
- মোবাইল সিমে ৩০০ টাকা কর বাতিল
- কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার
- ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে শুল্কছাড়
- প্রাথমিক শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহ পরিকল্পনা
- করমুক্ত আয়সীমা পৌনে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত
- সারা বছর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সুযোগ
- মৎস্য বীমা স্কিম চালুর পরিকল্পনা
- ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ১ লাখ টাকায় বৃদ্ধি
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তবে বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনাকে বাস্তবতার নিরিখে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, রাজস্ব নীতি, সরকারের ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বাজার পরিস্থিতি। সরকার যেসব ভোগ্যপণ্যে কর ও শুল্কছাড় দিয়েছে সেই সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর বাজার নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিগত এক দশকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশেরও নিচে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে — যেখানে ইউনেস্কো কমপক্ষে ৫ শতাংশের সুপারিশ করে। এবার বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ মডিউল ও একটি রিসোর্স পুল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
বাংলাদেশে যখন আগামী অর্থবছরের হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন আটলান্টিকের ওপারে আজতেকা স্টেডিয়ামে আলো জ্বলে উঠেছে। মেক্সিকান শিল্পী লিলা ডাউনস তাঁর সুরেলা কণ্ঠে বিশ্বকে স্বাগত জানালেন — “বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগতম।”
আজতেক সভ্যতার সোনালি আভায় মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। সোনালি পোশাকের পারফরমাররা মেক্সিকান সংস্কৃতির মহিমা তুলে ধরলেন। তারপর হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে মঞ্চে এলেন কলম্বিয়ান কিংবদন্তি শাকিরা। সানগ্লাস চোখে “দাই দাই” গানের সুর ধরতেই মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ও দারুণ সঙ্গ দিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপে “ওয়াকা ওয়াকা” দিয়ে যিনি চিরস্মরণীয় হয়েছেন, এবারেও তিনিই বিশ্বকাপের আসল আবেগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ৭০০ শয্যার এই বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের সময় হাসপাতালে ৪১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নতুন রোগী ভর্তি না করতে এবং বর্তমান রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে নির্দেশ দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের স্বার্থে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে।