আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? South Asian Report-এ আপনাদের স্বাগতম। আমি মেশকাত শরীফ। আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো বাংলাদেশের শীর্ষ পত্রিকাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়ে — সরাসরি, বিশ্লেষণসহ, আপনার জন্য।
আজকের পর্বে জানবেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রহস্যময় সাদা পতাকা ঘিরে গোয়েন্দা উদ্বেগের কথা, ঢাকার রাস্তায় নতুন যানজট শুল্পের পরিকল্পনা, আর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিশাল বাজেট নিয়ে। থাকছে চমকপ্রদ তথ্য — জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাজা, ব্যাংক খেলাপি ঋণে বড় ছাড়, আর ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয় দিন পর এক শিশুর জীবিত ফিরে আসার হৃদয়স্পর্শী গল্প। যে খবর সারাদেশে আলোচনার ঝড় তুলেছে তার মধ্যে আছে বরিশালে পুলিশের এআই কাণ্ড, আর মুম্বাইয়ে মহরমের মিছিলে বড় নাশকতা রুখে দেওয়া দুই সাহসী নারীর গল্প। চলুন, শুরু করা যাক।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হঠাৎ করে সাদা পতাকা উড়তে দেখলে আপনার প্রতিক্রিয়া কী হতো? দেশ রূপান্তর জানাচ্ছে, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্রিজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ হাটবাজারে রহস্যজনকভাবে আরবি লেখা সাদা পতাকা উড়তে দেখা গেছে, আর এই ঘটনা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাদা পতাকার আড়ালে চরমপন্থি ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, আর এর পেছনে দেশের এজেন্টদের পাশাপাশি ভিনদেশি সংস্থার ইন্ধনও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের আলোকে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে ইতিমধ্যে বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে, আর গত শনিবার গোয়েন্দা সংস্থা একটি গোপন প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলছেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই পতাকাগুলো কারা লাগাচ্ছে, আর তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? এই বিষয়টি এখন সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে, আর পুলিশ সদর দপ্তরে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়ে গেছে।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই রাজধানী ঢাকাবাসীর জন্য আরেকটি বড় খবর নিয়ে আসছে বণিক বার্তা। কল্পনা করুন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে গাড়ির জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে শুধু যানজট এড়ানোর জন্য। বণিক বার্তা জানাচ্ছে, রাজধানীর যানজট কমাতে কিলোমিটারপ্রতি ছয় দশমিক দুই সাত টাকা হারে যানজট শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই শুল্ক সব সড়কে নয়, শুধু মেট্রোরেল, বিআরটি বা উন্নত বাস পরিষেবা সুবিধাসম্পন্ন সড়কে কার্যকর হবে, আর এটি আদায় করা হবে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাক থেকে। ঢাকাকে ঘিরে বিশ বছর মেয়াদী, অর্থাৎ দুই হাজার পঁচিশ থেকে দুই হাজার পঁয়তাল্লিশ সাল পর্যন্ত প্রণয়নাধীন হালনাগাদকৃত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় এই সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এতে স্পষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে — শুল্ক কার্যকরের আগে অবশ্যই বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল করিডোরই এই শুল্কের উপযোগী একমাত্র রুট, তবে পরিকল্পনায় আরও দুটি মেট্রোরেল, তিনটি নতুন মেট্রোলাইন আর পাঁচটি মনোরেল লাইনের কথাও বলা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়।
এবার আসি স্বাস্থ্য খাতের একটি উদ্বেগজনক খবরে। আজকের পত্রিকা জানাচ্ছে, বর্ষার শুরুতেই দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হওয়ায় জোরেশোরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ। পরিসংখ্যান রীতিমতো ভয়ংকর — বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর আটচল্লিশ শতাংশই ভর্তি হয়েছে শুধু জুন মাসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, জানুয়ারি থেকে ত্রিশে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ছয় হাজার একশো চারজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মৃত্যু হয়েছিল মাত্র পাঁচজনের, অথচ শুধু জুন মাসেই মারা গেছেন তেরো জন। রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই জ্বরের প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। রাজধানীর বাইরে সংক্রমণ বেশি দেখা যাওয়ায় এখন গ্রামাঞ্চলেও সতর্কতা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে ঘটে গেছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। নয়াদিগন্তের শিরোনামে উঠে এসেছে মেগা বাজেট পাসের খবর। জাতীয় সংসদে দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ অর্থবছরের জন্য নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে, যা বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। প্রায় তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনা, ছাঁটাই প্রস্তাব ও রাজনৈতিক বিতর্ক শেষে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে এই বাজেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। এই বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে, কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর দুই লাখ তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রেখেই এই বাজেট কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার এক লাখ আটচল্লিশ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, আর এটি কার্যকর হবে পহেলা জুলাই থেকে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন গত বারোই জুন।
কিন্তু বাজেট পাসের দিনেই ঘটে গেছে আরেকটি নাটকীয় ঘটনা। মানবজমিনের শিরোনাম বলছে, সংসদে অনুপস্থিত এমপিদের ওপর প্রধানমন্ত্রীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের কথা। বাজেট অধিবেশনের মঙ্গলবার সকালের সেশনে অনুপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। মানবজমিনকে একাধিক হুইপ ও অনুপস্থিত সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে হুইপ এবং অনুপস্থিত এমপিদের ডেকে নেন এবং তাদের কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী নিজে যথাসময়ের আগেই সংসদে উপস্থিত হয়েছিলেন, অথচ দলীয় অনেক সংসদ সদস্য সময়মতো উপস্থিত থাকার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ক্ষমতার প্রথম দিনগুলোতেই দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কতটা কঠোর অবস্থানে আছেন নতুন সরকারপ্রধান।
এবার আসি একটি ভিন্ন ধাঁচের কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ খবরে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই কুখ্যাত তেইশ শীর্ষ সন্ত্রাসীর বর্তমান অবস্থার প্রশ্ন। সে সময় ঢাকায় কিলিং মিশন বাস্তবায়ন, কোটি টাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর পাড়া-মহল্লায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসীরা, এমনকি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল ঢাকার কয়েকটি এলাকা। অপরাধজগতের সেই আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিতে দুই হাজার এক সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তেইশ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা ঘোষণা করেছিল, আর তাদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার। এমনকি ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাতেও উঠেছিল অনেকের নাম। তালিকা প্রকাশের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল — কেউ বিদেশে পাড়ি জমান, কেউবা পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান, আবার কেউ চলে যান আত্মগোপনে। তবে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে থাকেনি বলেই জানাচ্ছে যুগান্তর।
শিল্প খাতেও রয়েছে বড় সংকট। কালের কণ্ঠের শিরোনাম বলছে, দেশের সাড়ে পাঁচশো কারখানায় এখনো চাকা ঘুরছে না। বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও মিলছে না গ্যাস সংযোগ, ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেও উৎপাদনে যেতে পারছে না এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও চার থেকে পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে এসব কারখানা। দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে বর্তমানে এক হাজার আটশোর বেশি নতুন সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে, কিন্তু গ্যাসসংকট ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বেশিরভাগ আবেদনই বছরের পর বছর ঝুলে আছে। শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এই অনিশ্চয়তার অবসান না ঘটালে দেশের শিল্পায়নের গতি আরও মন্থর হবে এবং বিনিয়োগ পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই আর্থিক চাপের মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি সুখবর দিচ্ছে সমকাল। নতুন পে স্কেলে এই বছর মূল বেতন আর পরের বছর ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর মূল বেতন চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকেই কার্যকর হবে, আর ভাতা কার্যকর হবে আগামী অর্থবছর, অর্থাৎ দুই হাজার সাতাশ-আটাশ সাল থেকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগস্ট থেকে নতুন কাঠামোর বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে প্রশাসনিক আদেশ ও গেজেট প্রকাশে কিছুটা দেরি হলে বকেয়াসহ পরিশোধ করা হবে। গত এগারোই জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এবার তাকাই কূটনৈতিক অঙ্গনে। প্রথম আলো জানাচ্ছে, জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় নতুন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিক প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে চায় বিএনপি সরকার। এই লক্ষ্যে জাপানি ঋণে মেট্রোরেলের লাইন-এক ও লাইন-পাঁচ প্রকল্পের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, আর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বও জাপানকে দেওয়া হচ্ছে। মূলত রাজধানীতে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্পে জাপানি কোম্পানিগুলোর উচ্চ দর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, আর অন্তর্বর্তী সরকার এই দুই প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ স্থগিত রেখেছিল। এখন নতুন সরকার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও ব্যয় কমানোর বিষয়ে দর-কষাকষি চালিয়ে যাবে, আর এ জন্য গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি।
অর্থনীতির প্রসঙ্গে এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি খবরে — ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমাতে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক তাদের খেলাপি ঋণের মূল অর্থ একসাথে পরিশোধ করবেন, তারা সুদ মওকুফের সুবিধা পেতে পারেন — অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে যে সুদ তাদের গুনতে হতো, সেটি আর পরিশোধ করতে হবে না। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আগামী একত্রিশে ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ আটাশি হাজার সাতশো চার কোটি টাকা, যার বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে নানান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে। তবে এই সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক ব্যবসায়ী। ঢাকার একজন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, যারা ঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করছেন তাদের কাছ থেকে পুরো সুদ নেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা পরিশোধ করছেন না তাদের সুদ মাফ করা হচ্ছে — যা তার কাছে হতাশাজনক মনে হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা অবশ্য বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর, আর বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে সুদ মওকুফ করতে না পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই সুযোগের অপব্যবহার ঠেকানো যাবে তো?
এবার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রায়ের খবরে আসছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ত্রিশ বছরের সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-দুই — যদিও সাজাগুলো একসাথে চলবে বলে বাস্তবে তাকে সর্বোচ্চ দশ বছর জেল খাটতে হবে। মি. ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন করে তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়া, চৌদ্দ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে যুক্ত থাকা, এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে কারফিউ ও গুলি চালানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া। তবে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সেগুলোতে খালাস পেয়েছেন তিনি। দুই হাজার চব্বিশ সালের ছাব্বিশে আগস্ট ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার হওয়া মি. ইনু বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে দুই মেয়াদে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় রাষ্ট্রপক্ষ — চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এখন দেখার বিষয়, উচ্চতর আদালতে এই মামলার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়।
দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার চোখ রাখি প্রতিবেশী ভারতে, যেখানে ঘটে গেছে এক লোমহর্ষক ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ঘটনা। মুম্বাইয়ের ভায়খলা অঞ্চলে মহরমের মিছিলে গত ছাব্বিশে জুন ইঁদুর মারার বিষ-ভরা ক্যাপসুল বিতরণ করার সময় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ, আর এই ভয়াবহ নাশকতার ছক বানচাল হয়ে যায় ইহলাম হামিদি ও রুখসার সৈয়দ নামে দুই সাহসী নারীর তৎপরতায়। প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের সেই মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হাজির ছিলেন এই দুই নারী, যখন তারা লক্ষ্য করেন এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল ছুঁড়ে ছুঁড়ে বিতরণ করছেন। রুখসার সৈয়দ বিবিসি মারাঠিকে বলেন, ক্যাপসুলের প্যাকেটে কিছু লেখা থাকলেও তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না, আর যখন তারা একটি ক্যাপসুল ভেঙে দেখেন, ভেতর থেকে কালো রঙের পাউডার বের হয়, তখনই তাদের সন্দেহ দৃঢ় হয়। পুলিশ পরবর্তীতে জানায়, অভিযুক্ত ফৈয়াজ নিসার প্রেমজি পঞ্চাশ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড নামে বিষাক্ত রাসায়নিক এবং ত্রিশ হাজার খালি ক্যাপসুল কিনেছিলেন, আর গত পনেরো দিন ধরে সেগুলোতে বিষ ভরে ব্যথার ওষুধ বলে বিতরণের পরিকল্পনা করছিলেন। এই ক্যাপসুল খেয়ে ইতিমধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যদিও তাদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মুম্বাই পুলিশ এই দুই নারীর উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছে, বলছে তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। সত্যিই, সাধারণ মানুষের সতর্কতা কীভাবে একটি বড় বিপর্যয় ঠেকিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক অসাধারণ উদাহরণ।
এই সাহসিকতার গল্পের পাশাপাশি এবার একটি অস্বস্তিকর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ খবরে আসছি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি ডে-কেয়ার কক্ষে এক শিশু আরেক শিশুকে অসংখ্যবার চড়, থাপ্পড় ও কামড়ে দিচ্ছে, অথচ সেই সময় কক্ষে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন না। ভিডিওটি বাংলাদেশ ও নেপালেও ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে মনে করছিলেন ঘটনাটি সেসব দেশেরই, কিন্তু পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি আসলে ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের একটি প্রি-স্কুলের ঘটনা। প্রায় তেরো মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় দশ মিনিট ধরে চলা এই মারধরে অন্তত পঁচিশবার শিশুটিকে কামড় দিয়েছে আঘাতকারী শিশুটি, আর তৃতীয় আরেকটি শিশু বিষয়টি থামাতে গিয়ে নিজেও মারধরের শিকার হয়। পুলিশ পরিদর্শক শিবাজী তাওয়ারে বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, স্কুলের একজন নারী সাহায্যকর্মী শিশুরা বাইরে চলে না যায় সেজন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, আর সেই সময়েই এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবকদের অভিযোগের পর স্কুল প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং দুইজন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ নাকি অভিভাবকদের মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে অর্থ ও বিনামূল্যে পড়াশোনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই ঘটনা আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে — সন্তানকে ডে-কেয়ারে রেখে যাওয়ার আগে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিশ্চিত, তা যাচাই করা কতটা জরুরি।
এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক হৃদয়স্পর্শী খবরে যাচ্ছি, যা আশার আলো জ্বালিয়েছে লাখো মানুষের মনে। ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল। লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লিয়েবার মোরান নামের এই শিশুটিকে বের করে আনার সময় উদ্ধারকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, এই উদ্ধার প্রমাণ করে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি — যদিও সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিনই উদ্ধার কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ধরা হয়। গত সপ্তাহের সাত দশমিক দুই ও সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার নয়শো তেতাল্লিশ জনে, আর দশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজার হাজার। নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রায় উনষাট হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ওই এলাকায় খাদ্য সংকট প্রকট, মৌলিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে, আর ত্রিশ হাজার ভূমিকম্প কবলিত মানুষের ছয় মাসের জন্য সুরক্ষা ও আশ্রয়ের জন্য পনেরো মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন তাদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও একটি শিশুর জীবিত ফিরে আসা যেন গোটা জাতির জন্য এক টুকরো আশার আলো।
এই আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি এবার একটু ভিন্ন স্বাদের, কিছুটা বিব্রতকর একটি খবরে আসি। বরিশালে মাদকসহ আটক এক আর্জেন্টাইন সমর্থকের গায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। সোমবার আটশো পিস ইয়াবাসহ রাসেল হাওলাদার নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, যার গায়ে তখন ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি। কিন্তু পরে যখন এই ছবি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, তখন বদলে যায় জার্সি — এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্জেন্টিনার জার্সির বদলে বসিয়ে দেওয়া হয় ব্রাজিলের জার্সি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বিবিসি বাংলাকে এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, মিডিয়া সেলের উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদ এটি নিছক মজা করেই করেছেন, কারণ যেহেতু বিশ্বকাপ চলছে আর মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, এটা মানুষের নজরে আসার পরই তিনি এই দুষ্টুমি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা নিজে আসলে স্পেন ফুটবল দলের সমর্থক। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল যোগাযোগেও কতটা সতর্কতা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার সারাদিনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খবর ঘটে গেছে দেশে ও বিদেশে, যেগুলো সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক। সৌদি আরবপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর — দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ বা নতুন-ট্রান্সফার হওয়া কর্মীরা চলতি বছরের মধ্যেই তাদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়ন সম্পন্ন করতে পারেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে গেছে এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা — অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, ছয়-তিন ভোটে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, অবৈধ বা সাময়িকভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের সন্তানরাও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিক। মধ্যপ্রাচ্যেও উত্তেজনা কমছে না — যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে-রেজা, বলেছেন তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে। দেশে ফিরে আসি, জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে জুয়া প্রতিরোধ আইন দুই হাজার ছাব্বিশ, যেখানে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি এবং ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট চব্বিশ ধরনের বিষয়কে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে চৌদ্দ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের একটি কারখানায় মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত বিশজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়দের দাবি, কারখানার ন্যাপথা পাইপলাইনে লিকেজ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও দেশের অনেক গণমাধ্যম তা মানছে না, আর শিগগিরই এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সবশেষে, ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-চার আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর শপথ নিতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, যদিও অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন পুনঃনির্বাচন হলে তিনি আবার অংশ নিতে পারবেন।
আজকের পর্বের শেষ খবরটি রাখলাম সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এক প্রসঙ্গের জন্য — বিশ্বকাপ ফুটবল। মরক্কোর বিস্ময়যাত্রা এবার কতদূর যাবে, এই প্রশ্ন এখন গোটা ফুটবলবিশ্বের মুখে মুখে। আটলাসের সিংহ নামে পরিচিত মরক্কো দ্বিতীয় রাউন্ডের নকআউট ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠে গেছে। এই আসরের প্রথম ম্যাচেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ফিফা র্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে থাকা এই দলটি, এরপর স্কটল্যান্ডকে এক-শূন্য গোলে এবং হাইতিকে চার-দুই গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা এক-এক গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে তিন-দুই ব্যবধানে জেতে মরক্কো, যেখানে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিপক্ষের একটি শট ঠেকিয়ে দেন এবং তার উপস্থিতিতে ভড়কে গিয়ে ডাচরা আরও দুটি শট মিস করে। এখন রাউন্ড অব সিক্সটিনে মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাগতিক কানাডা, যাদের বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার হিউস্টনে — আর মজার বিষয় হলো, গত আসরেও এই কানাডাকেই দুই-এক গোলে হারিয়েছিল মরক্কো। দলটির সবচেয়ে বড় তারকা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমী এ বছরই পিএসজির হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক হিসেবে বিবেচিত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মরক্কোর ছাব্বিশ সদস্যের এই স্কোয়াডের মাত্র আটজন মরক্কোতে জন্মেছেন, বাকি আঠারো জনের জন্ম বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে — যা দুই হাজার আট সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের হাতে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্প আর প্রবাসী প্রতিভা খুঁজে বের করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করলে মরক্কো টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে, আর দুই হাজার ত্রিশ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এই দেশটি যদি আবারও সেমিফাইনাল বা তারও বেশি দূর এগিয়ে যায়, তাহলে তা মোটেই অবাক করার মতো কিছু হবে না।
আজকের পর্বের জন্য এটুকুই। আশা করি আজকের বিশ্লেষণ আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি উপকারী মনে হয়, তাহলে অবশ্যই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন, এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আবার দেখা হবে নতুন খবর নিয়ে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।