‘বন্যার পরিধি ও দুর্ভোগ বাড়ছে’

১২ জুলাই, ২০২৬

বন্যায় মৃত ৫১, ঢাকায় জলাবদ্ধতা, ব্যাংককে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ প্রাণহানি — আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর

৫১
বন্যায় মৃত্যু
২৭
ব্যাংকক অগ্নিকাণ্ডে নিহত
২.৬৭ লাখ+
পানিবন্দী পরিবার
১,৮৮,৭০১ কোটি
খেলাপি ঋণ (টাকা)
দুর্যোগ

সাত জেলায় বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

সূত্র: কালের কণ্ঠবিবিসি বাংলা

টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের, আহত হয়েছেন ৩৯ জন। শুধু কক্সবাজারেই ভূমিধসে মারা গেছেন ২৮ জন।

⚠ সতর্কতা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সাত জেলায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, আর ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার এখনও পানিবন্দী। তিস্তা, ধরলা, সাঙ্গু ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী পাঁচ দিনেও উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠ প্রশাসনকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষত শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে।

নগর জীবন

হাজার কোটি টাকা খরচেও ঢাকায় জলাবদ্ধতা কাটেনি

সূত্র: প্রথম আলোবণিক বার্তা

শনিবার রাত ও রোববারের বৃষ্টিতে কার্যত ডুবে যায় ঢাকা শহর। মিরপুর, ধানমন্ডি, পান্থপথ ও কারওয়ানবাজারসহ বহু এলাকায় সড়কে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে, বাসাবাড়িতেও পানি ঢোকে।

“একটু বৃষ্টি হলেই সাঁতার কাটার মতো অবস্থা হয়।” — আব্দুল কাদের জ্বিলানী, ভুক্তভোগী বাসিন্দা, মিরপুর

প্রথম আলোর তথ্যমতে, গত এক দশকে ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন নালা নির্মাণ, খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খরচ করেছে অন্তত ২,১৪৬ কোটি টাকা। অথচ বণিক বার্তার প্রতিবেদন বলছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে নির্ধারিত পাঁচটি স্থায়ী জলাধার বা ওয়াটার রিটেনশন পন্ডের একটিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি।

  • ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ৯৭ মিলিমিটার
  • চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ৯৮ মিলিমিটার
  • প্রভাব পড়েছে পরীক্ষাসূচিতে — চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ১৬ জুলাই পর্যন্ত
আন্তর্জাতিক

ব্যাংককের বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক এলাকার একটি বারে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত ও ৮ জনের অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী।

“কাট-আউট সুইচে আগুন লেগেছিল, এরপর সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। একটি বিস্ফোরণ হয় এবং সবাই পালানোর চেষ্টা করে।” — অনুতিন চার্নভিরাকুল, প্রধানমন্ত্রী, থাইল্যান্ড

ব্যাংককের গভর্নর চাটচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, বারের সাজসজ্জার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আর প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে জরুরি বহির্গমন পথও পণ্যের টেবিল বসিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুরো ঘটনার ফরেনসিক তদন্ত চলছে।

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলের কর্তৃত্ব নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে বিরোধ

সূত্র: বিবিসি বাংলা

গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দের কর্তৃত্ব নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আগে ইউজিসির মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ই বণ্টন করত, কিন্তু চলতি বছর থেকে সরাসরি ইউজিসি নিজেই তা বিতরণ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“সামান্য টাকার জন্য শিক্ষকরা কি ইউজিসির বারান্দায় বারান্দায় ঘুরবে?” — অধ্যাপক শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, তাদের ৫৭টি গবেষণা ব্যুরো ও সেন্টার রয়েছে যা তদারকির সক্ষমতা ইউজিসির নেই। তবে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ আশ্বস্ত করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা তৈরি হবে যাতে একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা

সূত্র: নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজ অনুযায়ী, দেশের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

  • অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ব্যাংকসহ মোট ৯টি ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত
  • বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও এই তালিকায়
  • খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের উচ্চহার কমানো জরুরি, এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও এই অঙ্গীকার রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top