আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? South Asian Report-এ আপনাদের স্বাগতম। আমি মেশকাত শরীফ। আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো বাংলাদেশের শীর্ষ পত্রিকাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়ে — সরাসরি, বিশ্লেষণসহ, আপনার জন্য।
আজকের পর্বে জানবেন, যুবকদের জন্য নতুন এক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে দেশের কারাগারগুলোর ভয়াবহ চিত্র পর্যন্ত। থাকছে চমকপ্রদ তথ্য— ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান, খেলাপি ঋণে বিশাল ছাড়ের ঘোষণা, আর যে খবর সারাদেশে আলোচনার ঝড় তুলেছে— সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সবশেষ অবস্থা। পাশাপাশি থাকছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় খবর— যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিতর্কিত আইন পর্যন্ত। চলুন, শুরু করা যাক।
একটি নতুন ব্যাংক, যার নাম শুনলেই মনে হবে এটা তরুণদের জন্যই তৈরি— আচ্ছা, ভাবুন তো, সরকার যদি সত্যিই যুবকদের জন্য আলাদা একটা ব্যাংক খোলে, তাহলে কী হবে? বণিক বার্তা জানাচ্ছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় “যুব ব্যাংক” নামে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। গত সাতই মে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই, নীতিমালা প্রণয়ন এবং অর্থায়ন কাঠামো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশে যেখানে অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা এমনিতেই বেশি, নীতিনির্ধারক আর অর্থনীতিবিদরা যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক কমানোর কথা বলছেন, সেখানে নতুন ব্যাংক খোলার এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত? সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সরাসরি বলেছেন, আগের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর অবস্থা ঠিক না করে নতুন ব্যাংক তৈরি করলে বোঝা আরও বাড়বে। বিদ্যমান ব্যাংকগুলোই তো একই সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে দেশের কারাগার নিয়ে।
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসলে কারা, জানেন? কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোতে ৮৯ হাজার ৫৯২ জন বন্দির মধ্যে ৩১ হাজার ১৫০ জনই মাদক-সংক্রান্ত মামলার আসামি— অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক মাদকসেবী বন্দির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ, আর আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে হাজার হাজার মামলা। এই চাপ কমাতে সরকার ইতিমধ্যে দুটি বিশেষ কারাগার চালু করেছে, যেখানে মাদকসেবী বন্দিদের রেখে তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসল সমস্যা হলো, দেশের ৭৫টি কারাগারের ধারণক্ষমতা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে— গত রোববার পর্যন্ত মোট বন্দির সংখ্যা ছিল ৮৯ হাজার ৫৯২ জন, যাদের মধ্যে ৬২ হাজারের বেশি এখনো বিচারাধীন হাজতি। শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার একটা উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এবার আসি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবরে— এই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বসছেন না লাখ লাখ শিক্ষার্থী, কারণটা কী? প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করা প্রায় পনেরো লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে নয় লাখ। গত বছর এই হার ছিল ঊনত্রিশ শতাংশের কিছু বেশি— অর্থাৎ এক বছরেই প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে অনুপস্থিতির হার। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চুয়ান্ন শতাংশের বেশি ফরমই পূরণ করেননি। শিক্ষার এই সংকটের পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান নিয়েও নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
মানবাধিকার কমিশনকে সত্যিকারের স্বাধীন করা হবে, নাকি আগের মতোই অকার্যকর রাখা হবে? টাইমস অব বাংলাদেশ জানাচ্ছে, বিএনপি সরকারের প্রকাশিত মানবাধিকার কমিশন আইনের নতুন খসড়া নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খসড়ায় কমিশনকে সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীন না রাখার শর্তটি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া কমিশনার নিয়োগ বাছাই কমিটিতে স্পিকার, দুইজন মন্ত্রী এবং সরকারি দলের সংসদ সদস্যকে রাখায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের প্রভাব খাটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের তুলনায় এই খসড়া অনেকটাই পিছিয়ে, যা প্যারিস নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে স্বাস্থ্যখাতেও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট।
হাসপাতালগুলো একদিকে হাম, অন্যদিকে ডেঙ্গু— দুই রোগের চাপে বিপর্যস্ত অবস্থা! দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন নয়শোর বেশি হামের রোগী ভর্তি হচ্ছেন সারাদেশের হাসপাতালে, আর এর মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ঢাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলো, যেগুলো আগে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিত, এখন হামের রোগীতে ঠাসা। বিশেষ করে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল, যেটি গত বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করেছিল, এই বছরের মার্চ থেকে শুধু হামের চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর আটচল্লিশ শতাংশই জুন মাসে ভর্তি হয়েছেন, আর মৃত্যুর হার বাহাত্তর শতাংশ। বর্ষার ভরা মৌসুম জুলাই-আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যখাতের এই সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামো খাতেও দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের অনিয়ম।
সতেরো হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প কেন আটকে আছে নিজেদেরই নকশার ভুলে? আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন বলছে, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প মূল নকশার ভুল, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব আর সংশোধিত নকশা অনুমোদন না হওয়ার কারণে জটিলতায় পড়েছে। সরকারি নিরীক্ষায় দরপত্র, বিল পরিশোধ ও চুক্তি বাস্তবায়নে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মও উঠে এসেছে। দুই হাজার একুশ সাল থেকে ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রায় উননব্বই শতাংশ সময় শেষ হলেও, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র সাড়ে একুশ শতাংশ। এরই মধ্যে চার হাজার চারশো একুশ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়ে গেছে। এই অবকাঠামো সংকটের পাশাপাশি রাজধানীর মাটির নিচেও ঘটছে এক নীরব বিপর্যয়।
প্রতি বছর তিন মিটার করে নিচে নামছে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর— এটা কতটা বিপজ্জনক, বুঝতে পারছেন? যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার তথ্যমতে দুই হাজার এক সালে রাজধানীর পানির স্তর ছিল ঊনচল্লিশ দশমিক ছয় মিটার, যা দুই হাজার চব্বিশ সালে গিয়ে দাঁড়িয়েছে একশো নয় মিটারে। ঢাকা ওয়াসা এখনও সত্তর শতাংশ পানি তুলছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, আর মাত্র ত্রিশ শতাংশ আসছে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। তবে আশার কথা হলো, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে এই চিত্র বদলাতে কাজ শুরু করেছে সরকার। পানির এই সংকটের পাশাপাশি বন্দর খাতেও দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ প্রকল্প কি তাহলে থমকে যাচ্ছে? নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন বলছে, বে-টার্মিনাল প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের পিএসএ আর দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কথা থাকলেও তা আটকে আছে অনিশ্চয়তায়। পিএসএ সিঙ্গাপুর সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চ্যানেলে ন্যূনতম বারো মিটার গভীরতা নিশ্চিত করা এবং ঢেউপ্রতিরোধক বাঁধ সম্পূর্ণ নির্মিত হওয়ার পরই তারা মূল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে। এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি এখনো ঝুলে আছে। অথচ পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের চাপ পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে, ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এখন সক্ষমতার একেবারে শেষ সীমায়। বিনিয়োগের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বিদ্যুৎ খাতেও দেখা যাচ্ছে বৈষম্যের অভিযোগ।
দাম বেশি হলেও কেন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই বেশি কেনা হচ্ছে বিদ্যুৎ? দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকার বেসরকারি খাত থেকে প্রায় বাহাত্তর শতাংশ বিদ্যুৎ কিনেছে, যদিও পিডিবির নিজস্ব ও সরকারি কোম্পানির বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক কম। বছরে এক লাখ আঠারো হাজার আটশো বাষট্টি কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি, আর আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে তেতাল্লিশ হাজার তিনশো কোটি টাকা। সরকারের পরিকল্পনা ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণ সমান পঞ্চাশ শতাংশ রাখার, কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকার ভারতের আদানি, রিলায়েন্সের মতো কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ায় এই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। জ্বালানি খাতের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশে বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতাও।
চলতি বছরের সাড়ে পাঁচ মাসে উনষাট জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন— এই পরিসংখ্যান কী বলছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে? সমকালের প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার সংগঠন আসকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উনষাট জনের মধ্যে বিএনপির পঁয়তাল্লিশ জন, জামায়াতের সাতজন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিশ জন, বাকিরা অন্যান্য ঘটনায় নিহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিহতদের বড় অংশই বিএনপির নিজস্ব কোন্দল বা জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গেছেন। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার ছয়শো ছত্রিশ জন নেতাকর্মী। এই সহিংসতার মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এই বছরই কি তাহলে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন? ইত্তেফাকের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারও চাইছে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে, আর এ লক্ষ্যে বাজেট সংকুলানের কাজও শুরু করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ইউপি নির্বাচনের পর পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি এবার চোখ রাখা যাক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত থমকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী পর্ব— এই একটি বিষয় কীভাবে গোটা আঞ্চলিক কূটনীতিকে প্রভাবিত করছে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের দোহায় দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে, যেখানে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে না পারায় আলোচনা চলমান থাকবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো তার দাফন সম্পন্ন হয়নি— আগামী নয়ই জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে, আর তারপরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যদিও গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার ফিরে আসি দেশের অভ্যন্তরীণ সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কি সত্যিই বাড়ছে পহেলা জুলাই থেকে, নাকি এটাও থেকে যাচ্ছে শুধু ঘোষণাতেই? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে পহেলা জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেনি সরকার। দুই হাজার পঁচিশ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন একশো থেকে একশো চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার আড়াইশো টাকা থেকে বাড়িয়ে বিশ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, প্রথমে মূল বেতন বাড়ানো হবে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় নব্বই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে চুয়াল্লিশ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশ হতে পারে। বেতন বৃদ্ধির এই টানাপোড়েনের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঋণ পরিশোধ না করেও কি সুদ মাফ পাওয়া যাবে? এমন প্রশ্নই তুলছেন অনেক ব্যবসায়ী। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, খেলাপি গ্রাহকরা মূল অর্থ একসাথে পরিশোধ করলে সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন, তবে তা আগামী একত্রিশে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ আটাশি হাজার সাতশো চার কোটি টাকা, যার বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, শুধু যেসব গ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তারাই এই সুবিধা পাবেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সুযোগের অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে উল্টো ফল হতে পারে। ব্যাংকিং খাতের এই আলোচনার পাশাপাশি এবার দেখে নেওয়া যাক একটি সম্ভাবনাময় নতুন খাতের কথা।
তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ কি অংশ নিতে পারবে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে হালাল শিল্প নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের হালাল খাত উন্নয়নে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার হালাল বাজার দুই হাজার ত্রিশ সালে একশো তেরো বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে খাদ্য-পানীয় খাতই হবে পঁচাশি বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র পঁচাশি কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে, আর মাত্র দুইশো আশিটি প্রতিষ্ঠানকে হালাল সনদ দেওয়া হয়েছে। বিএমসিসিআই সভাপতি মোঃ আনোয়ার শহীদ বলছেন, সার্টিফিকেশন ল্যাবরেটরির অভাবই বাংলাদেশের মূল সমস্যা, আর এই সংকট কাটাতে পারলে হালাল শিল্প হতে পারে অর্থনীতির গেমচেঞ্জার। প্রযুক্তি খাতেও এবার দেখা যাচ্ছে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
আপনার ফোন নম্বর গোপন রেখেই কি এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা যাবে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ এমন একটি নতুন ফিচার আনছে, যেখানে ফোন নম্বরের বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করে যোগাযোগ করা যাবে। বিশ্বজুড়ে তিনশো কোটি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ, তবে ইউজারনেম ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয় এবং যেকোনো সময় তা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এই ফিচারের অপব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি ও প্রতারণার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এমনকি ভারত সরকার এই বিষয়ে মেটাকে একটি নোটিশও পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার চোখ রাখা যাক প্রতিবেশী দেশের একটি বিতর্কিত আইনের দিকে।
‘গুন্ডা দমন বিল’ নামে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের নতুন আইন কি আসলেই অপরাধ দমনের জন্য, নাকি বিরোধী কণ্ঠস্বর রুখতে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া এই আইনের আওতায় কাউকে সমাজবিরোধী কাজে জড়িত থাকার আশঙ্কাতেই সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক রাখা যাবে, এমনকি সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা যাবে। আটক ব্যক্তি সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের অধিকার পাবেন না, বিশেষ অনুমতি ছাড়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হবে না, তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ এটিকে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাতের অনুরূপ আইনের মতো এটিও দরিদ্র, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই আইনি বিতর্কের পাশাপাশি কলকাতায় আরেকটি ঘটনা তুলে ধরছে নাগরিকত্ব প্রমাণের এক করুণ বাস্তবতা।
একজন প্রবীণ সাংবাদিক, যিনি তিন দশক ধরে কলকাতায় বাস করছেন, তাকেই এখন প্রমাণ করতে হচ্ছে তিনি ভারতের নাগরিক কি না— এটা কতটা অস্বাভাবিক শোনায়? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিখ্যাত পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফের প্রাক্তন সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের নাম ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার পর এখন তার পাসপোর্ট নবায়নও আটকে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। মি. রামদাস বলছেন, তিনি এখন নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মৃত মায়ের স্কুলের বন্ধুদের পর্যন্ত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ষাট লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন, আর নির্বাচনের আগে সাতাশ লাখেরও বেশি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই মানবিক সংকটের পাশাপাশি এবার ফিরে আসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনায়।
গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার এক দশক পার হয়ে গেছে— কিন্তু দেশে জঙ্গি তৎপরতা কি সত্যিই কমেছে, নাকি নতুন রূপে ফিরে আসছে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই হাজার ষোল সালের পহেলা জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছিলেন অন্তত বাইশ জন, যার দায় স্বীকার করেছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় আটক তিন শতাধিক ব্যক্তি মুক্তি পাওয়ার পর আবারও জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তবে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট প্রধান মোঃ রেজাউল করিম বলছেন, বাস্তবে এখন তেমন কোনো তৎপরতা তারা দেখছেন না। এদিকে হোলি আর্টিজান মামলায় প্রথমে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড হলেও পরে হাইকোর্ট তা আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তর করে, যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবার। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিটি সরকারই জঙ্গি ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এসেছে। আর সবশেষে, একটু ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানো যাক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জমি সত্যিই কি নবাব পরিবারের দান করা, নাকি এটা একটা প্রচলিত ভুল ধারণা? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়শো একর জমি নবাব সলিমুল্লাহর দান বলে যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে, তার সরাসরি কোনো দলিল প্রমাণ পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা। বরং রমনার জমি ছিল সরকারের খাসমহল, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার বার্ষিক এক হাজার টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ইজারা দিয়েছিল। দুই হাজার এক সাল থেকে দুই হাজার একুশ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়, যার আর্থিক সংকটও ছিল প্রকট— শিক্ষকদের বেতন পর্যন্ত কমিয়ে দিতে হয়েছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। শতবর্ষের ইতিহাস গ্রন্থের সহযোগী সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল বাছির বলছেন, এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আজকের পর্বের জন্য এটুকুই। আশা করি আজকের বিশ্লেষণ আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি উপকারী মনে হয়, তাহলে অবশ্যই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন, এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আবার দেখা হবে নতুন খবর নিয়ে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।