দুইবার পিছিয়ে পড়েও জাপানের অদম্য ড্র—
ডালাসের মাঠে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল সামুরাই ব্লু
বিশ্বকাপ এসেছে ডালাসে—টেক্সাসের বুকে, যে রাজ্যটি নিজেই যেন এক আলাদা জাতির মতো গর্বিত এবং উচ্চকণ্ঠ। ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মোট নয়টি ম্যাচের প্রথমটিতেই জমল দারুণ লড়াই—নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান। স্টেডিয়ামের ছাদের ইনডোর লাইটিং বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল মাঠের ঘাস বাঁচাতে এবং খেলার উপযুক্ত পিচ নিশ্চিত করতে।
নেদারল্যান্ডস দল তিন ডিফেন্ডারের ফর্মেশনে মাঠে নামে। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে ব্রুকেন গোলপোস্ট সামলান। ডাচ দলটি ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে থাকে।
- ডামফ্রিস ডান দিক থেকে ক্রমাগত ওভারল্যাপিং রান করে ডাচ আক্রমণকে সচল রাখেন
- গাকপো উইং ও স্টপ-গ্যাপ স্ট্রাইকার উভয় ভূমিকায় খেললেও ফিনিশিং ঠিকমতো হলো না
- জাপানের কুবো ও নাকামুরা বারবার ডাচ রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করেন
- ভান হেকke-র ভালো ফুটওয়ার্ক ও সেভ ডাচ সংকট কমিয়েছে
- জাপান দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার না মেনে লড়াই অব্যাহত রাখে
২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ছাপ রাখলেন ভার্জিল ভান ডাইক। গ্রাভেনবার্খের দারুণ রানের পর যে ক্রসটি আসে, তা থেকে ভান ডাইক প্রায় আনমার্কড অবস্থায় থেকে নিখুঁত হেডার করেন।
অফসাইড কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রেফারি গোল দিলেন। ভান ডাইক হয়তো একটু ধাক্কা দিয়েছিলেন—কিন্তু তার কাছে এত স্পেস ছিল যে সেটা খুব একটা বিষয় হয়ে ওঠেনি।
জাপান সমতায় ফেরার পরেও ডাচরা থামেনি। গ্রাভেনবার্খের দারুণ বল থেকে ডামফ্রিসের ওভারল্যাপিং রান সোমারভিলকে বাঁ পায়ে বলটা ভেতরে নিতে সুযোগ দেয়।
সোমারভিল পোস্টের পাশ দিয়ে বলটা পাঠালেন—দারুণ স্ট্রাইক। জাপান আবার পিছিয়ে পড়ল।
জাপান দুবারই পিছিয়ে পড়েছিল—১-০ এবং ২-১ থাকা অবস্থায়। কিন্তু প্রতিবারই তারা ফিরে এসেছে। শেষ সমতার গোলটি করেন দাইচি কামাদা—ইতো-র কর্নার থেকে আসা বলে একটুখানি ডিফ্লেকশন হয়ে বলটা জালে জড়িয়ে যায়।
জাপান গোলরক্ষক সুজুকি হয়তো ওই শটটি সেভ করতে পারতেন। কিন্তু ডিফ্লেকশনটা তিনি দেখতে পাননি—এবং নিজেই অনেকটা বলটাকে নেটের ছাদে ঠেলে দিলেন।
- নেদারল্যান্ডস আধিপত্য বিস্তার করেছে কিন্তু একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে—ফিনিশিং দুর্বলতা স্পষ্ট
- ভান ডাইকের হেডার ও সোমারভিলের বাঁ পায়ের শট দুটি বিশ্বমানের গোল
- গ্রাভেনবার্খ ও ডামফ্রিস ডাচ আক্রমণের মেরুদণ্ড ছিলেন
- জাপানের মোরিয়াসু কোচের বেঞ্চে হাসি ফুটল সমতার পরে
- গ্রুপ এফ-এ ১ পয়েন্ট করে শুরু হলো উভয়দলের বিশ্বকাপ যাত্রা
এই ড্র দুই দলের জন্যই মিশ্র বার্তা নিয়ে এলো। নেদারল্যান্ডসের শক্তিশালী রক্ষণ ও মাঝমাঠ থাকলেও আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতার অভাব সামনের ম্যাচে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে জাপান দেখিয়েছে—বড় দলের বিরুদ্ধেও তারা হার স্বীকার করে না।
বাংলা ভাষাভাষী ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি ছিল এক অসাধারণ মঞ্চনাটকের মতো—প্রতিটি গোলে উত্তেজনা, প্রতিটি মিস শটে হাহাকার, আর শেষ মুহূর্তে কামাদার গোলে স্বস্তির নিঃশ্বাস।