হুমায়ুন কবির সাহিত্য পুরস্কার পেলেন তিন লেখক

সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক—বহুমাত্রিক পরিচয়ের হুমায়ুন কবিরের জন্ম ফরিদপুরের কোমরপুরে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই গুণীজনের স্মরণে দ্বিতীয়বারের মতো দেওয়া হলো ‘হুমায়ুন কবির সাহিত্য পুরস্কার’। এ বছর সাহিত্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিন লেখক এ পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ। গবেষণায় মোহাম্মদ হাননান, কবিতায় আজাদুর রহমান ও কথাসাহিত্যে কিযী তাহনিন পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের হাতে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। কবিতায় পুরস্কার পাওয়া আজাদুর রহমান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করব বলেন, ‘পুরস্কারের ভার বহন করতে পারব কি না, সেটাতেই আমি ভয় পাই।’ এরপর কবিতা ও জীবন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।১৯০৬ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। পরে শিক্ষকতা ও শিক্ষা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত হন। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দুইবার দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের শিক্ষানীতি প্রণয়নেও ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর প্রণীত ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষানীতির প্রভাব এখনো রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাতিমা জাহান।ফাতিমা জাহান বলেন, ‘ভারতের শিক্ষানীতি প্রণয়নে হুমায়ুন কবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জন্ম ফরিদপুরে—এটি গর্বের বিষয় হলেও ভারতের শিক্ষার্থীদের অনেকেই তাঁর সম্পর্কে জানেন না। হুমায়ুন কবিরের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনও ছিল বিস্তৃত।’অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবিরের সাহিত্য ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আরও কথা বলেন কথাসাহিত্যিক ও জীবনানন্দ গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, লেখক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদী, মোহাম্মদ আলী খানসহ অনেকে।অনুষ্ঠানের শুরুতে এবারের সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া তিনজনের জীবনের ওপর তথ্যচিত্র দেখানো হয়।Read More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top