সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সুবিধা, বাড়ছে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম

নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তাতে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়বে।আজ সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতির ফলে জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি কমবে, শিল্প উৎপাদন অব্যাহত থাকবে, উৎপাদন ব্যয় কম পাওয়াসহ যন্ত্রপাতির ক্ষতি কম হবে, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে।মন্ত্রিসভা নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছেবৈঠকে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর আওতায় নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নিম্ন স্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য (প্রতি ১০ শলাকা) ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর স্থলে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়। এর ফলে নিম্ন স্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য এবং রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস পাবে। মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছেন। এ চুক্তি উভয় পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তি সংশোধন করতে পারবে, এ–সংক্রান্ত বিধান খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।Read More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top