শেখ হাসিনার পদত্যাগ, ছাত্র আন্দোলনের ফলস্বরূপ পরিবর্তন

সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বঙ্গভবন থেকে দেশ ছাড়েন। ছাত্র-জনতার ২৩ দিনের আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তিনি বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতের আগরতলা হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান। এর মাধ্যমে টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে তার শাসনকালে কোনো গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তার সরকারের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ জমে ছিল। ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার পর ১৭ জুলাই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ে। ১৯ জুলাই সরকার ‘শুট অন সাইট’ নির্দেশ দেয়।

৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৯ দফা দাবি এক দফায় রূপান্তরিত হয়—সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা এরশাদের চেয়ে খারাপ হয়ে বিদায় নিয়েছেন। ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট—২৩ দিনে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন অগণিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top