বৃদ্ধাশ্রমে বাবার শেষকৃত্যে আসেনি সন্তানরা, মৃত্যুসনদ চাইলেন

সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক ভারতের ভোপালের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ দুই দিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল পরিবারের কেউ অন্তত শেষকৃত্যে অংশ নিতে আসবেন। কিন্তু তার মেয়ে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং ছেলে জানান তিনি আসতে অক্ষম। তারা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে কেবল মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

‘আপনা ঘর’ নামের ওই বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপক মাধুরী মিশ্র জানান, গত ৪ আগস্ট ঘনশ্যাম নামের ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তার পরিবারের আদি নিবাস ইন্দোরে। মৃত্যুর পর পরিবারকে খবর দেওয়া হলেও কেউ আসেনি। দীর্ঘ সময় মৃতদেহ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও তারা স্বজনদের আশায় দুই দিন মৃতদেহ রেখে দিয়েছিলেন। অবশেষে পরিবারের কেউ না আসায় পুলিশের সহায়তায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতের মেয়ে বলেছেন তার বাবা সব সম্পত্তি তার ভাইকে দিয়ে গেছেন এবং ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। সম্পত্তি থেকে কিছুই না পাওয়ায় তিনি শেষকৃত্যে কেন যাবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, ছেলে নানা অজুহাত দেখান। তিনি এমন মন্তব্য করেন যে, “বাবা আমাদের জন্য কী করেছেন?”

বৃদ্ধাশ্রম সূত্রে জানা যায়, ঘনশ্যাম একসময় সাইকেলের টায়ার ও টিউবের পাইকারি ব্যবসা করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেছিলেন, তা সন্তানদের মধ্যেই ভাগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে এই বৃদ্ধাশ্রমেই কাটাতে হয়।

মাধুরী মিশ্র জানান, সমাজে প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীলতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক পরিবারে বাবা-মাকে তাদের উপযোগিতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন আরও অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখেছেন, যেখানে সন্তানরা বাবা-মাকে রাস্তায় ফেলে দেয় বা পরিচয় গোপন করতে বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র নিজেদের কাছে রেখে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top