ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেড় শ ছুঁই ছুঁই

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলো ১৪৯ জনের। আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন। দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৮৩৭ জন। ডেঙ্গুতে মৃত্যু এবং সংক্রমণের সংখ্যা ঢাকার বাইরে বাড়ছে। এটা বড় শঙ্কার দিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ রাজধানীতে যতটা হয়, তা বাইরে খুব কম হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ছয়জনই ঢাকার বাইরের। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন দুজন করে। আর একজন করে মারা গেছেন রাজধানীর বাইরে ও ময়মনসিংহ বিভাগে। দেশে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল গত আগস্ট মাসে। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। আর আগস্টে মারা গিয়েছিলেন ৪৩ জন। আর এ মাসে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।এখন যে হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে মৃত্যুও বাড়তে পারে আগামী দিনে—এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি রোধ করতে হলে ঘরে ঘরে গিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা দরকার বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের বিশেষ অভিযান অনেক দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। এর সুফল পেতে দেরি হবে। কিন্তু এখন এই অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের খোঁজ নিতে হবে। জ্বর হলে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এটা করা হলে অন্তত মৃত্যু কিছুটা কমানো যেতে পারে।গত শনিবার তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। এটি চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।এ অভিযানের ফল দ্রুতই পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, এর ফল পেতে অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে; কিন্তু এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হচ্ছে। মশার প্রকোপ বাড়তে পারে। অভিযান আরও আগে থেকে শুরু হলে ভালো হতো।রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দেশের সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য জেলাগুলোয়—এ সংখ্যা ৩০৭। এরপরই আছে খুলনা বিভাগ। উপকূলীয় এ বিভাগে গতকাল ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭৫ জন।চলতি বছরে ঢাকার দুই সিটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৪৭৭ জন। এ সংখ্যা মোট আক্রান্তের এক–চতুর্থাংশ।Read More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top