সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক গত কয়েক দিনে অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মতে, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও সহিষ্ণুতার অভাব রয়েছে। বর্তমানে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ প্রধানত ছাত্রশিবিরের হাতে রয়েছে, যা ছাত্রদল নিতে চেষ্টা করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য রয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবির বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও হলের ক্লাবগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্যদের অবস্থান সংকুচিত করছে। ছাত্রদল এ ‘মোড়লিপনা’ আর মানতে নারাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা ১২টি পদে ৯টিতে জয়লাভ করে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতির সুযোগ ছিল না। তবে ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর হলগুলোতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ কমে যায় এবং শিবির প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়লাভ করে শিবির সমর্থিত প্যানেল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, শিবির ক্যাম্পাসে ছদ্মবেশে দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। অপরদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।