সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক বাংলাদেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অপরাধের ফলে আহত ব্যক্তিরা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে তরুণ শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের ডান চোখে পাথর আঘাত করে, যার ফলে তিনি হয়তো আর সেই চোখে দেখতে পারবেন না।
রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ঘটনায় জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোর। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, কারণ শিশুদের আচরণে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা রয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রেলওয়ে আইনে এই অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, তবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে তা কার্যকর হবে না। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের অভাব রয়েছে। ফলে অপরাধীরা শাস্তির সম্ভাবনা কম মনে করছেন।
এছাড়া, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তথ্যভান্ডার নেই। কতজন আহত বা নিহত হয়েছেন, কোন এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ—এই তথ্যের অভাব প্রশাসনের কার্যকর সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অতএব, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে পাথর নিক্ষেপপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তকরণ নিশ্চিত না হলে এই প্রবণতা থামবে না।