সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদী ও নদীতীরের অংশ দখল করে দুইটি হোটেল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা নদীদখলের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের নদীমাতৃক পরিচয়ের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ।
গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুইটি হোটেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেই। একটি হোটেল দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে এবং অন্যটি নির্মাণাধীন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, তারা কোনো অনুমতি দেয়নি এবং আবেদনও করা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নজরে বিষয়টি কেন আসেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অনেক সময় দখলদারদের সাহস জোগায়, যা অবৈধ দখলের পৃষ্ঠপোষকতা করে।
বাংলাদেশে নদী রক্ষার জন্য আইন রয়েছে, তবে বাস্তবে অনেক নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এর পেছনে সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্ব এড়ানোর সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। নদী দখল কেবল বর্তমানের ক্ষতি নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও বিপদ ডেকে আনে।
এই সংকট মোকাবিলায় একটি ধারাবাহিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন। নদীর সীমানা নির্ধারণ, নির্মাণকাজের অনুমোদন অনলাইনে প্রকাশ এবং অবৈধ দখলের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, কারণ নদী রক্ষা মানে দেশের উন্নয়ন রক্ষা।