আজকের প্রধান সংবাদ
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক — সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নামে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।
আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১ শতাংশ। এই আমানত বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ — শুধু ২০২১ সালে এটি সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল।
সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রথমবারের মতো উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছেন বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্য। স্থানীয় সরকার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে দলের ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মূল বিতর্কের কারণ — প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নামকরণ তার পারিবারিক পদবি এবং দুই ছেলের নামের সাথে হুবহু মিলে যাওয়া। যদিও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি নিছক কাকতালীয়।
আইন প্রয়োগ করতে গিয়েই বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর চলতি জুন মাসের মাঝামাঝিতেই বড় তিনটি ঘটনা ঘটে গেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আগে যে হামলা লুকিয়ে বা রাতের আঁধারে হতো, তা এখন হচ্ছে প্রকাশ্যে — মব তৈরি করে।
মাত্র ২২ কিলোমিটারের সংকীর্ণ করিডোর — শিলিগুড়ি বা ‘চিকেন নেক’কে ঘিরে ভারত দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা চারটি পুরনো ও বন্ধ বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোর সাথে যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সামরিক তোড়জোড় চীন-বাংলাদেশ-ভারত ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
- শিলিগুড়ি করিডোরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
- ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের সংযোগ এই পথেই
- বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ৪ বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবন
- বিজিবির গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আঞ্চলিক উদ্বেগ উল্লেখ
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের পাঁচ কারাগারে চরম বিশৃঙ্খলায় পালিয়ে যায় ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো ৬৯৭ জন পলাতক।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো ৫৩ জন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ বন্দি — জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য। কারা অধিদপ্তর শঙ্কিত এই বন্দিরা বাইরে থেকে গুরুতর অপরাধ সংঘটন করতে পারে।
ঢাকার লাখো বাড়িঘর থেকে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ৭ হাজার টন বর্জ্য। ধারণক্ষমতা হারানো দুটি বিশাল ল্যান্ডফিল এখন কৃত্রিম পাহাড়ের আকার নিয়েছে। এই পাহাড়ের উচ্চতা যাতে না বাড়ে, সেজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপকেরা প্রায়ই আগুন ধরিয়ে দেন।
সেই আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো বাতাসকে দূষিত করে মানুষকে ধীরে ধীরে বিষাক্ত করছে। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। সংকট কাটিয়ে উঠতে দুই বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৩৬টি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ কমিটি গঠন করেছেন।
একইসাথে একজন স্বতন্ত্র অডিটরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থায় একাধিক দুর্বলতা রয়ে গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তায় ব্যবহৃত কয়েকটি সফটওয়্যার আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য নয়।
মূল সমস্যা — সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে সফটওয়্যার ক্রয়ের প্রবণতা, যা সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে বড় ফাঁকফোকর তৈরি রাখছে।
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় — এমন বিরল সৈকত কুয়াকাটা এখন সংকটে। উপকূলীয় ভাঙন, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি আর দূষণ-দখলের কারণে সৈকতের বেলাভূমি সংকুচিত হয়ে আসছে, বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক ও স্থানীয় মানুষেরা। দীর্ঘমেয়াদে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রকোপ। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও তার উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন।
টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং মহামারী নিয়ন্ত্রণে বিলম্বের কারণে এই বিপুল সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
যদি আজকের সংকলন আপনার কাজে এসেছে, তাহলে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আবার দেখা হবে নতুন খবর নিয়ে।