প্রথমবার যৌন দৃশ্য, অনেক ভেবেই রাজি হন এই তারকা

‘ওয়েলকাম টু সামদাল-রি’ ও ‘দ্য ওয়ার্স্ট অব ইভিল’-এর মতো জনপ্রিয় কোরীয় ধারাবাহিকের অভিনেতা জি চ্যাং-উক। ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বিধায় ছিলেন; প্রথমবার যৌন দৃশ্যে অভিনয় করবেন কি না, তা নিয়ে অনেক ভেবেছেন এই অভিনেতা।অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেটফ্লিক্সের নতুন ধারাবাহিক ‘দ্য স্ক্যান্ডাল’-এ। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম যৌন দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন ৩৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা।জি চ্যাং-উক বলেন, ‘আমি কয়েকবার ভেবেছি, যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে পারব কি না। যদি করি, তাহলে সেটা কী ধরনের কাজ হতে হবে? আর কেনই-বা আমি এমন দৃশ্যে অভিনয় করব? এসব প্রশ্ন নিয়ে আমি অনেক সময় ভেবেছি।’তবে শেষ পর্যন্ত ‘দ্য স্ক্যান্ডাল’-এর চো উন চরিত্রটির জন্য রাজি হন তিনি। এ ক্ষেত্রে পরিচালক জং জি-উয়ের সঙ্গে কাজের সুযোগও তাঁকে সাহস জুগিয়েছে।জি চ্যাং-উকযে কারণে রাজি হলেন‘দ্য স্ক্যান্ডাল’ পিয়েরে শোদারলো দ্য লাকলোর বিখ্যাত ফরাসি উপন্যাস ‘ডেঞ্জারাস লিয়াজোঁ’ অবলম্বনে তৈরি। এর গল্পে চো উন এক বিধবাকে প্রলুব্ধ করার বাজিতে জড়িয়ে পড়ে। চরিত্রটির প্রেম, সম্পর্ক ও মানসিক টানাপোড়েনই জি চ্যাং-উককে আকৃষ্ট করেছে।অভিনেতা বলেন, ‘চরিত্রটির সম্পর্কগুলো, অধরা ভালোবাসার ধারণা এবং ভালোবাসা কীভাবে জটিল হয়ে উঠতে পারে, সেগুলো আমার ভালো লেগেছে। চরিত্রটি যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে, সেটিও আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘চো উনের আবেগ অনেক জটিল। আমি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম।’উদ্বেগও ছিলতবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও উদ্বেগ ছিল জি চ্যাং-উকের। বিশেষ করে নগ্নতা ও কিছু দৃশ্যের স্পষ্ট উপস্থাপন নিয়ে চিন্তা ছিল তাঁর।জি চ্যাং-উক বলেন, ‘এটি এমন একটি কাজ, যা নিয়ে অনেক চিন্তা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নগ্নতার মাত্রা এবং কিছু দৃশ্যের স্পষ্ট প্রকৃতি নিয়ে অবশ্যই উদ্বেগ ছিল। তবে আমার বয়সে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করা জীবনের বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আর মনে হয়েছে, এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া সার্থক।’‘দ্য স্ক্যান্ডাল’–এর দৃশ্যে জি চ্যাং-উকভাবমূর্তি বদলাতে চান৪০ বছরে পা দেওয়ার আগে নিজের অভিনয়ের পরিসর আরও বাড়াতে চান জি চ্যাং-উক। প্রচলিত ভাবমূর্তির বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান তিনি।অভিনেতার ভাষ্যে, ‘আমার মনে হয়, আমি সব সময় একটি খোলস ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যও অনেক চেষ্টা করছি। অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের পরিসর আরও বাড়াতে চাই।’ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা ও হতাশাকেও স্বাভাবিকভাবে দেখেন জি। তাঁর মতে, শুধু প্রশংসা পাওয়ার মধ্য দিয়ে একজন শিল্পীর বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়।জি চ্যাং-উক বলেন, ‘পড়ে যাওয়াটা সবার জন্যই কষ্টের। কিন্তু আবার উঠে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি খুঁজে পাওয়ার অভ্যাস করতে হয়। এ কারণেই আমি বিভিন্ন ধরনের কাজ করার চেষ্টা করছি।’নিজের ৩০-এর দশককে জীবনের পরিবর্তনের সময় হিসেবে দেখেন জি চ্যাং-উক। এই সময়ে অনেক হতাশার মুখোমুখি হয়েছেন, আবার নিজেকে বারবার চ্যালেঞ্জও করেছেন। ভবিষ্যতে পেছনে ফিরে তাকালে এসব কাজকেই নতুন কিছু চেষ্টা হিসেবে দেখতে চান তিনি।শেষ পর্যন্ত ‘দ্য স্ক্যান্ডাল’-এর মতো কাজের মধ্য দিয়ে নিজের আরও ব্যক্তিগত ও সত্যিকারের অভিনয়-সত্তা দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান জি চ্যাং-উক। তাঁর ভাষায়, ‘এটাই আমি’ বলতে পারা এবং নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরা, এমনকি সবাই এতে একমত না হলেও একজন অভিনেতা হিসেবে সেটিই একটি অর্থবহ চ্যালেঞ্জ।কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনেRead More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top