ভবনে টাইলস লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাইভোল্টেজের তারে এক ঘণ্টা ঝুলছিল মিস্ত্রির লাশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বৈদ্যুতিক খুঁটির ১১ হাজার ভোল্টের তারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. সাজিদ (২৪) নামের এক টাইলসমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাঁর লাশ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ঝুলছিল। আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস পৌনে পাঁচটার দিকে লাশ উদ্ধার করে। সাজিদ পূর্ব চর দামুকদিয়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সাজিদ ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলদাগ এলাকার সুজন উদ্দিনের তিনতলা বাড়ির বারান্দাসহ বাইরের অংশে তিন দিন ধরে টাইলস বসানোর কাজ করছিলেন। ভবনের বারান্দা থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটির ১১ হাজার ভোল্টের তারের দূরত্ব মাত্র সাড়ে তিন ফুটের মতো।সাজিদ সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি মাচার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। মাচার ওপর দাঁড়ানো অবস্থায় ১১ হাজার ভোল্টের তার থেকে তাঁর দূরত্ব মাত্র দেড় ফুট ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।আজ বিকেল পৌনে চারটার দিকে কাজ করার সময় সাজিদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর লাশ হাইভোল্টেজের তারে ঝুলতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।সাজিদের চাচা আবদুল আজিজ জানান, তিন দিন থেকে তিনি এখানে কাজ করছিলেন। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া উচিত হয়নি।এ বিষয়ে জানতে বাড়ির মালিক সুজন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ভেড়ামারার আবাসিক প্রকৌশলী মাসুম পারভেজ বলেন, বৈদ্যুতিক লাইন নির্ধারিত ম্যাপ অনুযায়ী গেছে। পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে লাইনের এতটা কাছে এসে বাড়ি করা উচিত হয়নি। ১১ হাজার ভোল্টের তারের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কাজ করা উচিত নয়।ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সাজিদের ঝুলন্ত লাশ ১০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।ভেড়ামারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। ফায়ার সার্ভিস আমাদের লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’Read More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top