নেত্রকোনার দুই উপজেলায় দলে পদ থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়া যাবে না

নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। রাজনৈতিক দলের পদে থাকা কোনো ব্যক্তি সভাপতি হতে পারবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে ইতিমধ্যে দুই উপজেলার অন্তত ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত রোববার দুর্গাপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কায়সার কামাল তাঁর এ অবস্থানের কথা জানান। উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা শিক্ষক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল সোমবার দুপুরে কলমাকান্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাতেও তিনি একই কথা বলেন।অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা–১ আসনের (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে কিছু ক্ষমতা থাকে। অনেক সময় এসব ক্ষমতার রাজনৈতিক অপব্যবহার হয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে পরিচালনা কমিটিতে সক্রিয় রাজনীতিকদের পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও সমাজের সম্মানিত নিরপেক্ষ নাগরিকদের যুক্ত করা প্রয়োজন।কায়সার কামাল বলেন, ‘যারা রাজনীতি করবেন, তাঁদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। তাই আমার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে বেসরকারি স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পদে থেকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে দেওয়া যাবে না।’দুই উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অতীতে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব পাওয়ার প্রবণতা ছিল। কায়সার কামালের উদ্যোগ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে চাইলে তাঁকে আগে দলীয় পদ ছাড়তে হবে।ইতিমধ্যে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দুর্গাপুরের বারোমারি উচ্চবিদ্যালয়, কাকৈইগড়া উচ্চবিদ্যালয়, কৃষ্ণের চর উচ্চবিদ্যালয়, কলমাকান্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ অন্তত ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও কলমাকান্দার বাসিন্দা ননী গোপাল সরকার বলেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পেশাদারত্ব বাড়বে। শিক্ষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ যাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাহত না হয়, সে জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। একাডেমিক উন্নয়নে সভাপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেপুটি স্পিকার মহোদয় যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষাবিদ বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কমিটিতে রাখা হয়, তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মনিটরিংয়ের কাজে তাঁদের লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তিনি রাজনীতি করবেন; কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে হলে তাঁকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।’Read More: Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top