South Asian Report
ব্রাজিল বনাম মরক্কো: নিউ জার্সিতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর লড়াই
সূত্র: টি স্পোর্টস (T Sports) ব্রডকাস্টনিউ জার্সির সুন্দর নীল আকাশ এবং ঝলমলে রোদের নিচে এক অসাধারণ ফুটবল সন্ধ্যার সাক্ষী হলেন গ্যালারিতে উপস্থিত আবেগপ্রবণ দর্শকরা। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যদিও মরক্কোর স্কোয়াডে ছিলেন না ২০২২ বিশ্বকাপের হিরো ইউসেফ এন-নেসিরি, তবুও শুরু থেকেই তারা দাপট দেখাতে থাকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো উচ্চ শক্তির (High Energy) ফুটবল উপহার দেয়। ১৮ বছর বয়সী তরুণ আইয়ুব বুয়াদি, আশরাফ হাকিমি এবং মাজরাউইয়ের দুর্দান্ত সব আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ বারবার খেই হারাচ্ছিল। প্রথমার্ধেই নিউ জার্সির তীব্র উত্তাপের মাঝে ইসমাইল সাইবারী এক অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে মরক্কোকে এগিয়ে নেন। ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ানোর সময় তার আত্মবিশ্বাস ছিল দেখার মতো।
অন্যদিকে, ব্রাজিল বল পজিশন কম পেলেও ট্রানজিশনে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র তার ক্যারিয়ারের ৫০তম জাতীয় দলের ম্যাচে ব্রাজিলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। মরক্কোর রক্ষণভাগের কয়েকজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে এক দুর্দান্ত ও বিশ্বমানের শটে তিনি সমতা ফেরান। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার ১০ম গোল। প্রথমার্ধের অগোছালো পারফরম্যান্স নিয়ে ডাগআউটে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে চিন্তিত দেখা গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ১-১ গোলেই শেষ হয়।
১-১
চূড়ান্ত স্কোরলাইন
১০ম
ভিনিসিয়াসের আন্তর্জাতিক গোল
৫০
ভিনিসিয়াসের ম্যাচ সংখ্যা
নিউ জার্সি
খেলার ভেন্যু
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স (New Items)
- সাইবারীর দুর্দান্ত ফিনিশ: ইসমাইল সাইবারীর গোলটি ছিল দেখার মতো। বক্সে বল পেয়েও তিনি তাড়াহুড়ো করেননি, বরং ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসনের অবস্থান দেখে নিখুঁতভাবে বল জালে জড়ান।
- গোলরক্ষক বুনুর বীরত্ব: ব্রাজিলের লুকাস পাকেতা (Paqueta) একটি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু (Bono) ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই নিশ্চিত গোল সেভ করেন।
- ম্যাথিউস কুনহার আক্রমণ: ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনহা বারবার মরক্কোর বক্সে ভীতি ছড়িয়েছেন। তার বেশ কয়েকটি আক্রমণ মরক্কোর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে এবং তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্নারও আদায় করে নেন।
- অ্যালিসনের ডাবল সেভ: দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর একটি মারাত্মক আক্রমণ রুখে দেন অ্যালিসন। প্রথম শট সেভ করার পর খুব দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে তিনি দ্বিতীয় শটটিও প্রতিহত করে ব্রাজিলের পতন ঠেকান।
- রাফিনহার হতাশা: রাফিনহা বেশ কয়েকবার ভালো পজিশনে বল পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। একটি কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে নেওয়া তার শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে।
- মাজরাউই ও হাকিমির দাপট: মরক্কোর হয়ে মাজরাউই পুরো মাঠ জুড়ে অসাধারণ খেলেছেন। তার নিখুঁত পাস এবং আশরাফ হাকিমির গতি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি।