মেক্সিকো ২–০ দক্ষিণ আফ্রিকা: বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজকদের জয়, তিনটি লাল কার্ডে উত্তাল মেক্সিকো সিটি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠল উদ্বোধনী ম্যাচেই। স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে বড় একটি পদক্ষেপ রাখল। তবে স্কোরলাইনের চেয়েও বেশি আলোচনায় এল তিনটি লাল কার্ড — এবং অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজের ঐতিহাসিক গোল।
প্রথমার্ধ থেকেই মেক্সিকো উচ্চচাপের ফুটবল খেলতে শুরু করে। মিডফিল্ডার কিনোনেজ সরাসরি আক্রমণে অংশ নিয়ে মেক্সিকোকে প্রথম গোল এনে দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ বারবার চাপে পড়েছিল — তারা বল মেক্সিকান খেলোয়াড়দের কাছেই ফিরিয়ে দিচ্ছিল, যা নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে আনে।
মেক্সিকোর হাই প্রেস কৌশল পুরো প্রথমার্ধজুড়ে কার্যকর ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ আসলেও গুটিয়েরেজ ও অন্য আক্রমণকারীরা গোলে রূপ দিতে পারেননি — যা পরবর্তীতে বিপদ বাড়িয়েছে “বাফানা বাফানা”-দের জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধ মাত্র চার মিনিটে গড়ানোর পরেই দক্ষিণ আফ্রিকার এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। এটি ছিল তাদের তৃতীয় লাল কার্ড, যা এই ম্যাচকে ব্যতিক্রমীভাবে উত্তপ্ত করে তোলে। ইতিমধ্যে ১১ বনাম ১১ খেলতেই সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা — এরপর ১০ জনে নেমে যাওয়া কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেয়।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝে মাঝে বিতর্ক উঠলেও — বিশেষ করে পেনাল্টির একটি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং হিমেনেজের বিরুদ্ধে একটি ফাউল না দেওয়া নিয়ে — মূল সিদ্ধান্তগুলোতে VAR-এর পর্যালোচনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রাউল হিমেনেজের এই গোলটি কেবল ম্যাচ নির্ধারণী ছিল না — এটি ইতিহাসের পাতায় তার নাম লিখিয়ে দিল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর সর্বকালের গোলস্কোরারের তালিকায় কিংবদন্তি হারেদ বোর্গেত্তির সঙ্গে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
হিমেনেজের ক্লাবেও সম্প্রতি নতুন চুক্তি হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর এই মুহূর্তে তাকে নিয়ে উন্মাদনায় মুখর পুরো মেক্সিকো — দর্শকেরা “মোরা, মোরা” বলে চিৎকার করছিলেন মাঠে, যা ছিল তার জনপ্রিয়তার প্রতিফলন।
- মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের সর্বকালীন রেকর্ড দর্শক ছিল ১৯৬৮ সালে — সেবার ১,১৯,০০০ জন উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের বিপক্ষে (যে ম্যাচে মেক্সিকো ২–০ হেরেছিল)।
- এই দুই দলের মধ্যে এটি ছিল মাত্র পঞ্চম সাক্ষাৎ। ২০০০ সালে ডালাসে একটি প্রীতি ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা জেতেনি।
- মেক্সিকোর কোচ এর আগে মিগুয়েল মেয়ার ব্যারনের অধীনে USA ৯৪-এ সহকারী ছিলেন এবং সেটি তার তৃতীয় দফায় মেক্সিকো কোচিং।
- দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক পুরো ম্যাচে স্বস্তিদায়ক পারফরম্যান্স দিলেও দলের ক্রমাগত লাল কার্ড সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।
- ম্যাচে ভিএআর পরীক্ষা করা হলেও রেফারির কোনো সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
পূর্ণ সময়ে মেক্সিকো ২–০ জিতলেও ম্যাচটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি লাল কার্ড এবং মেক্সিকোর হাই-প্রেস ফুটবল একসঙ্গে এই ম্যাচকে একটি অসাধারণ দর্শনীয় ম্যাচে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড, ঐতিহাসিক গোল রেকর্ড আর ৮৩,০০০ দর্শকের সামনে এই উত্তেজনা — মেক্সিকো সিটির ম্যাচটি আরও অনেকদিন মনে রাখা যাবে।