যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরমে: পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধবিরতি টালমাটাল

সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করায় এপ্রিল থেকে বলবৎ থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন গভীর সংকটে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অভিমুখে ইরানের পাঠানো চারটি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি, এই ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তাৎক্ষণিক বিপদ ডেকে আনছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ হামলার আশঙ্কায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত নজরদারি রাডার ঘাঁটিগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে।

এর পাল্টা জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, নিক্ষিপ্ত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই ঘটনার কিছুদিন আগে বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় অস্বীকার করে দাবি করেছে, বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির কারণ মার্কিন ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ত্রুটি। তবে সেন্টকম এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে বিমানবন্দরে হামলাকে “ইচ্ছাকৃত, পূর্বপরিকল্পিত ও অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেছে।

আইআরজিসি এর আগে জানিয়েছিল, ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ ও কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিশানা করা হয়েছে।

কূটনৈতিক স্থবিরতা ও চুক্তির অনিশ্চয়তা

চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনাও থমকে গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির শর্তে পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে এবং পরস্পরবিরোধী দাবি তুলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই সংঘাত পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। ইরান তখন ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয় — যে প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়।

ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলও এই পথ ব্যবহার করে। প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ পুরোদমে জারি থাকবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাতে চলেছে, যার সঙ্গে তারা সক্রিয় সামরিক সংঘাতে রয়েছে।


সাউথ এশিয়ান রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top